দেশের সব দোকান, বিপণিবিতান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটির মতে, বর্তমান সময়ে সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখার কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, দেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য দোকান, মার্কেট ও শপিংমলকে ঘিরে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনার খরচ ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের বাড়তি চাপ
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমান সময়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রত্যাশিত বিক্রি করতে পারছেন না। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের আগে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের একটি বড় অংশ কেনাকাটার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ক্রেতাদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক মানুষ দিনের বেলায় বাজার বা শপিংমলে যেতে পারেন না। তারা বিকেল কিংবা সন্ধ্যার পর কেনাকাটার জন্য বের হন। কিন্তু দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়ে।
তাদের মতে, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ থাকলে বিক্রি বাড়বে, ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে এবং সাধারণ মানুষও সুবিধাজনক সময়ে কেনাকাটা করতে পারবেন।
সরকারের কাছে আহ্বান
স্মারকলিপিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা, ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিদিন দুপুর ১২টা অথবা সরকারের উপযুক্ত বিবেচিত কোনো সময় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সব দোকান, মার্কেট, শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত ব্যবসায়িক সুযোগ না থাকলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হলে তার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপরও পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















