পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যে ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, তাদের অবশেষে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকা থেকে সরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের এসব সদস্য গত তিন দিন ধরে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছিলেন।
সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রোববার গভীর রাতে বিএসএফ ওই ১০ জনকে শূন্যরেখা এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম।
পুশইনের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা
বিজিবি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তে মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে থাকে।
এরপর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিজিবি। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নজরে রাখেন। সীমান্তে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অবস্থানের কারণে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
খোলা আকাশের নিচে মানবিক দুর্ভোগ
দলটিতে পাঁচজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুইজন শিশু ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা টানা তিন দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। এ সময়ে ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ এবং গরমে তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করায় মানবিক উদ্বেগও তৈরি হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বড়বাড়ী সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সীমান্তে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের অচলাবস্থার অবসান হলেও বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফ পুশইন
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তে তিন দিন ধরে জিরো লাইনে অবস্থান করা নারী-শিশুসহ ১০ জনকে অবশেষে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। সীমান্ত পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















