কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের জড়ো করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নজরদারি জোরদার করেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্ধা সীমান্ত এলাকায় ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলারের ৮ নম্বর সাব-পিলারের কাছে কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে ছুটে যান। বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
একই সীমান্তে আগেও চেষ্টা
স্থানীয়দের দাবি, এর আগের রাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। শনিবার গভীর রাতে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে দুটি ট্রাকে করে বেশ কিছু মানুষকে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
তবে সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত অবস্থান নেন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন। তাদের সম্মিলিত অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সীমান্তজুড়ে বাড়তি সতর্কতা
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভারতের আসাম রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মুসলিম নাগরিকদের সীমান্তবর্তী ক্যাম্পগুলোতে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে তারা আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। পরে সুযোগ বুঝে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে সীমান্তের আলো বন্ধ করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বিজিবি ও এলাকাবাসীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
রোববার রাতেও কয়েকশ মানুষকে সীমান্ত এলাকায় এনে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিজিবির অবস্থান
সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে কিছু মানুষকে জড়ো করার তথ্য তারা পেয়েছেন। যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণও এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















