১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০০-র বেশি হত্যাকাণ্ডের দাবি, মন্তব্যে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর দাবি, টিআইবির প্রতিবেদন কোনো স্বাধীন তদন্তের ভিত্তিতে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের সংকলনের ওপর তৈরি হয়েছে। তাই এটিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তারা প্রতিটি ঘটনার তদন্ত বা যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে না। প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে হলে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত অপরাধ পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০০-র বেশি হত্যাকাণ্ডের টিআইবির দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি তিনি এখনও পর্যালোচনা করেননি, তাই সেখানে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট সংখ্যার বিষয়ে মত দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে তিনি বলেন, সরকার নিয়মিতভাবে ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে এবং আগের বছরের একই সময়ের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে। সেই তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদন বনাম সরকারি তথ্য

সালাহউদ্দিন আহমেদের মতে, সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে প্রতিটি প্রকাশিত খবর যে শতভাগ বাস্তবতার প্রতিফলন, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু যাচাই ছাড়া কেবল প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সঠিক নয়। সরকারের কাছে জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত যে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আসে, সেটিকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জনবান্ধব পুলিশ গঠনের দাবি

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশকে আরও জনমুখী ও নাগরিকবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য, আইন, জনস্বার্থ এবং আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পুরস্কার ও শাস্তির নীতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় সরকারের ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা ভালো কাজ করবেন তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে, আর অনিয়ম বা অসদাচরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এর ফল আরও স্পষ্ট হবে।

তদন্ত ব্যয় ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে

পুলিশি তদন্তে অর্থসংকটের বিষয়টি স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কার্যক্রম, ময়নাতদন্ত এবং টহল পরিচালনার জন্য ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে পলাতক থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিছু মামলা চলমান, আবার কিছু শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০০-র বেশি হত্যাকাণ্ডের দাবি, মন্তব্যে বিরত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০৬:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর দাবি, টিআইবির প্রতিবেদন কোনো স্বাধীন তদন্তের ভিত্তিতে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের সংকলনের ওপর তৈরি হয়েছে। তাই এটিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তারা প্রতিটি ঘটনার তদন্ত বা যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে না। প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে হলে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত অপরাধ পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০০-র বেশি হত্যাকাণ্ডের টিআইবির দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি তিনি এখনও পর্যালোচনা করেননি, তাই সেখানে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট সংখ্যার বিষয়ে মত দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে তিনি বলেন, সরকার নিয়মিতভাবে ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে এবং আগের বছরের একই সময়ের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে। সেই তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদন বনাম সরকারি তথ্য

সালাহউদ্দিন আহমেদের মতে, সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে প্রতিটি প্রকাশিত খবর যে শতভাগ বাস্তবতার প্রতিফলন, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু যাচাই ছাড়া কেবল প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সঠিক নয়। সরকারের কাছে জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত যে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আসে, সেটিকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জনবান্ধব পুলিশ গঠনের দাবি

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশকে আরও জনমুখী ও নাগরিকবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য, আইন, জনস্বার্থ এবং আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পুরস্কার ও শাস্তির নীতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় সরকারের ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা ভালো কাজ করবেন তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে, আর অনিয়ম বা অসদাচরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এর ফল আরও স্পষ্ট হবে।

তদন্ত ব্যয় ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে

পুলিশি তদন্তে অর্থসংকটের বিষয়টি স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কার্যক্রম, ময়নাতদন্ত এবং টহল পরিচালনার জন্য ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে পলাতক থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিছু মামলা চলমান, আবার কিছু শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।