০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

শূন্য-কার্বনের পথে হাঁটতে গিয়ে নতুন নির্ভরতার ফাঁদে পড়ছে কি ব্রিটেন?

জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা নিয়ে আজ আর তেমন কোনো বিতর্ক নেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ক্রমেই ঘন ঘন ঘটছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পর্যন্ত নানা সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও প্রশ্ন। তাই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের রাজনৈতিক ও নৈতিক যুক্তি শক্তিশালী।

কিন্তু এই রূপান্তরের আরেকটি দিক রয়েছে, যা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। একটি দেশ যখন তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমায়, তখন সে কি সত্যিই স্বাধীন হয়ে ওঠে, নাকি শুধু অন্য ধরনের নির্ভরতার দিকে সরে যায়?

ব্রিটেনের বর্তমান জলবায়ু নীতির দিকে তাকালে এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নবায়নযোগ্য শক্তির সাফল্যের আড়ালের বাস্তবতা

গত এক দশকে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির খরচ নাটকীয়ভাবে কমেছে। ফলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্পখাতকে দ্রুত বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নির্গমন হ্রাস সম্ভব।

কিন্তু এই আশাবাদের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য আছে। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কেন্দ্রে রয়েছে চীন।

সৌর প্যানেল উৎপাদন, ব্যাটারি সেল নির্মাণ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন কিংবা বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চীন এমন এক অবস্থান তৈরি করেছে, যা অন্য কোনো দেশের নেই। বহু বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সহায়তা, পরিকল্পিত শিল্পনীতি এবং ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে বেইজিং এমন একটি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

ফলে সবুজ প্রযুক্তি যত সস্তা হয়েছে, তার বড় কারণও চীনের এই আধিপত্য।

Understanding the concept of zero carbon and its importance!

নির্ভরতার রূপ বদলালেই কি স্বাধীনতা আসে?

জীবাশ্ম জ্বালানির যুগে ইউরোপের বড় উদ্বেগ ছিল বিদেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ। কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তির যুগে সেই উদ্বেগ পুরোপুরি বিলীন হয়নি; বরং তার চরিত্র বদলেছে।

আজ একটি দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়তো সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু সেই অবকাঠামোর যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, ব্যাটারি বা প্রয়োজনীয় খনিজ যদি অন্য একটি শক্তিশালী দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে প্রকৃত স্বাধীনতা কতটা অর্জিত হলো?

ধরা যাক, ভবিষ্যতে কোনো বড় ভূরাজনৈতিক সংকট তৈরি হলো—যেমন তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা। এমন পরিস্থিতিতে যদি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়, অথবা রপ্তানি প্রক্রিয়া রাজনৈতিক কারণে ধীর হয়ে যায়, তাহলে নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর অর্থনীতিগুলোও গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারে।

এখানে মূল ঝুঁকি প্রযুক্তিগত গুপ্তচরবৃত্তি বা দূর থেকে কোনো সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার কল্পবিজ্ঞানধর্মী আশঙ্কা নয়। প্রকৃত ঝুঁকি হলো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা। যে দেশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল বা প্রযুক্তি সরবরাহ করে, সে দেশ প্রয়োজন হলে সেই অবস্থানকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে।

জলবায়ু নীতি ও শিল্পনীতির অসামঞ্জস্য

সমস্যার আরেকটি মাত্রা হলো শিল্প প্রতিযোগিতা। ইউরোপ ইতোমধ্যে সৌরশক্তি খাতে নিজেদের অনেক উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে। একই ধরনের চাপ এখন বায়ু টারবাইন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পেও দেখা যাচ্ছে।

যদি কোনো দেশ একদিকে কঠোর জলবায়ু লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আর অন্যদিকে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উৎপাদনে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে। তখন সবুজ রূপান্তর পরিবেশগত সাফল্য বয়ে আনলেও শিল্প ও কৌশলগত দিক থেকে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।

এ কারণেই জলবায়ু নীতি এবং শিল্পনীতি আলাদা করে দেখা যায় না। কেবল নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন সক্ষমতা কোথা থেকে আসবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় ভারসাম্য

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতাও টেকসই সমাধান নয়। কিন্তু সবুজ ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে গিয়ে যদি একটি দেশ নতুন ধরনের কৌশলগত নির্ভরতা তৈরি করে, তাহলে সেই সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

নীতিনির্ধারকদের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে, অন্যদিকে এমন একটি শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে হবে যা জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে বহিরাগত চাপের কাছে জিম্মি হতে দেবে না।

জলবায়ু সংকটের সমাধান শুধু পরিষ্কার জ্বালানিতে নয়; সেই জ্বালানির পেছনের সরবরাহ শৃঙ্খল কতটা নিরাপদ এবং বৈচিত্র্যময়, তার মধ্যেও লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের প্রকৃত উত্তর।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

শূন্য-কার্বনের পথে হাঁটতে গিয়ে নতুন নির্ভরতার ফাঁদে পড়ছে কি ব্রিটেন?

০৬:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা নিয়ে আজ আর তেমন কোনো বিতর্ক নেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ক্রমেই ঘন ঘন ঘটছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পর্যন্ত নানা সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও প্রশ্ন। তাই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের রাজনৈতিক ও নৈতিক যুক্তি শক্তিশালী।

কিন্তু এই রূপান্তরের আরেকটি দিক রয়েছে, যা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। একটি দেশ যখন তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমায়, তখন সে কি সত্যিই স্বাধীন হয়ে ওঠে, নাকি শুধু অন্য ধরনের নির্ভরতার দিকে সরে যায়?

ব্রিটেনের বর্তমান জলবায়ু নীতির দিকে তাকালে এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নবায়নযোগ্য শক্তির সাফল্যের আড়ালের বাস্তবতা

গত এক দশকে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির খরচ নাটকীয়ভাবে কমেছে। ফলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্পখাতকে দ্রুত বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নির্গমন হ্রাস সম্ভব।

কিন্তু এই আশাবাদের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য আছে। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কেন্দ্রে রয়েছে চীন।

সৌর প্যানেল উৎপাদন, ব্যাটারি সেল নির্মাণ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন কিংবা বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চীন এমন এক অবস্থান তৈরি করেছে, যা অন্য কোনো দেশের নেই। বহু বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সহায়তা, পরিকল্পিত শিল্পনীতি এবং ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে বেইজিং এমন একটি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

ফলে সবুজ প্রযুক্তি যত সস্তা হয়েছে, তার বড় কারণও চীনের এই আধিপত্য।

Understanding the concept of zero carbon and its importance!

নির্ভরতার রূপ বদলালেই কি স্বাধীনতা আসে?

জীবাশ্ম জ্বালানির যুগে ইউরোপের বড় উদ্বেগ ছিল বিদেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ। কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তির যুগে সেই উদ্বেগ পুরোপুরি বিলীন হয়নি; বরং তার চরিত্র বদলেছে।

আজ একটি দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়তো সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু সেই অবকাঠামোর যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, ব্যাটারি বা প্রয়োজনীয় খনিজ যদি অন্য একটি শক্তিশালী দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে প্রকৃত স্বাধীনতা কতটা অর্জিত হলো?

ধরা যাক, ভবিষ্যতে কোনো বড় ভূরাজনৈতিক সংকট তৈরি হলো—যেমন তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা। এমন পরিস্থিতিতে যদি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়, অথবা রপ্তানি প্রক্রিয়া রাজনৈতিক কারণে ধীর হয়ে যায়, তাহলে নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর অর্থনীতিগুলোও গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারে।

এখানে মূল ঝুঁকি প্রযুক্তিগত গুপ্তচরবৃত্তি বা দূর থেকে কোনো সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার কল্পবিজ্ঞানধর্মী আশঙ্কা নয়। প্রকৃত ঝুঁকি হলো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা। যে দেশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল বা প্রযুক্তি সরবরাহ করে, সে দেশ প্রয়োজন হলে সেই অবস্থানকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে।

জলবায়ু নীতি ও শিল্পনীতির অসামঞ্জস্য

সমস্যার আরেকটি মাত্রা হলো শিল্প প্রতিযোগিতা। ইউরোপ ইতোমধ্যে সৌরশক্তি খাতে নিজেদের অনেক উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে। একই ধরনের চাপ এখন বায়ু টারবাইন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পেও দেখা যাচ্ছে।

যদি কোনো দেশ একদিকে কঠোর জলবায়ু লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আর অন্যদিকে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উৎপাদনে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে। তখন সবুজ রূপান্তর পরিবেশগত সাফল্য বয়ে আনলেও শিল্প ও কৌশলগত দিক থেকে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।

এ কারণেই জলবায়ু নীতি এবং শিল্পনীতি আলাদা করে দেখা যায় না। কেবল নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন সক্ষমতা কোথা থেকে আসবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় ভারসাম্য

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতাও টেকসই সমাধান নয়। কিন্তু সবুজ ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে গিয়ে যদি একটি দেশ নতুন ধরনের কৌশলগত নির্ভরতা তৈরি করে, তাহলে সেই সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

নীতিনির্ধারকদের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে, অন্যদিকে এমন একটি শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে হবে যা জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে বহিরাগত চাপের কাছে জিম্মি হতে দেবে না।

জলবায়ু সংকটের সমাধান শুধু পরিষ্কার জ্বালানিতে নয়; সেই জ্বালানির পেছনের সরবরাহ শৃঙ্খল কতটা নিরাপদ এবং বৈচিত্র্যময়, তার মধ্যেও লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের প্রকৃত উত্তর।