০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট সুদ কমার মূল্য দিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা মালদ্বীপের সামুদ্রিক গবেষণা: সমুদ্রের মালিকানা যখন জ্ঞানের মালিকানায় রূপ নেয় বাজারকে অমান্য করে অর্থনীতি চালানো যায় না অব্যবহৃত জলাশয় বেকার তরুণদের ব্যবহারে দেওয়ার উদ্যোগ, মৎস্য খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত শিল্প-সেচ, কমছে চালকলের উৎপাদন ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৭০, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৮০৫ রোগী

শামো হত্যার বিচার চাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ থামছে না, ভিসির পদত্যাগ দাবি তীব্রতর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আলম শামোর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার “শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে” প্ল্যাটফর্ম আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা সরাসরি প্রশাসনকে দায়ী করছেন।

কে ছিলেন শামো, কীভাবে হত্যা হয়েছিল

শাহরিয়ার আলম শামো ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হল ইউনিটের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক। গত মে মাসের মাঝামাঝি রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাছে মোটরসাইকেল সংঘর্ষের জেরে এক বিবাদে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

কী দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা

বিক্ষোভকারীরা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। প্রথমত, শামোর হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। তৃতীয়ত, উপাচার্য ও প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। চতুর্থত, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। তারা অভিযোগ করেছেন, বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের পাশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অথচ সেখানে কোনো কার্যকর ফুটেজ নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।

মশাল মিছিল থেকে ভবন তালাবদ্ধ পর্যন্ত

শামোর মৃত্যুর পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে শাহবাগ মোড় অবরোধ, মশাল মিছিল, একাধিক অনুষদ ভবনে তালা লাগানো এবং রেজিস্ট্রার ভবনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ। আন্দোলনকারীরা বলছেন, গত ৯ মাসের মধ্যে এটি ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় ছাত্রহত্যার ঘটনা, তবু প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছে এবং গোয়েন্দা পুলিশকে মামলা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের রাজনীতির বাইরে থেকে বিচার নিশ্চিত করতে চায়। তবে বিক্ষোভকারীরা এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন এবং পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শামো হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত। প্রশাসন বনাম শিক্ষার্থীদের এই টানাপোড়েন আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শামো হত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছে, ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

শামো হত্যার বিচার চাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ থামছে না, ভিসির পদত্যাগ দাবি তীব্রতর

০৭:১৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আলম শামোর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার “শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে” প্ল্যাটফর্ম আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা সরাসরি প্রশাসনকে দায়ী করছেন।

কে ছিলেন শামো, কীভাবে হত্যা হয়েছিল

শাহরিয়ার আলম শামো ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হল ইউনিটের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক। গত মে মাসের মাঝামাঝি রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাছে মোটরসাইকেল সংঘর্ষের জেরে এক বিবাদে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

কী দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা

বিক্ষোভকারীরা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। প্রথমত, শামোর হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। তৃতীয়ত, উপাচার্য ও প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। চতুর্থত, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। তারা অভিযোগ করেছেন, বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের পাশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অথচ সেখানে কোনো কার্যকর ফুটেজ নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।

মশাল মিছিল থেকে ভবন তালাবদ্ধ পর্যন্ত

শামোর মৃত্যুর পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে শাহবাগ মোড় অবরোধ, মশাল মিছিল, একাধিক অনুষদ ভবনে তালা লাগানো এবং রেজিস্ট্রার ভবনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ। আন্দোলনকারীরা বলছেন, গত ৯ মাসের মধ্যে এটি ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় ছাত্রহত্যার ঘটনা, তবু প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছে এবং গোয়েন্দা পুলিশকে মামলা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের রাজনীতির বাইরে থেকে বিচার নিশ্চিত করতে চায়। তবে বিক্ষোভকারীরা এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন এবং পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শামো হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত। প্রশাসন বনাম শিক্ষার্থীদের এই টানাপোড়েন আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শামো হত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছে, ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।