০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট সুদ কমার মূল্য দিচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা মালদ্বীপের সামুদ্রিক গবেষণা: সমুদ্রের মালিকানা যখন জ্ঞানের মালিকানায় রূপ নেয় বাজারকে অমান্য করে অর্থনীতি চালানো যায় না অব্যবহৃত জলাশয় বেকার তরুণদের ব্যবহারে দেওয়ার উদ্যোগ, মৎস্য খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত শিল্প-সেচ, কমছে চালকলের উৎপাদন ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৭০, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৮০৫ রোগী

ভুটানে ভূমিকম্প, রাতের ঢাকায় আতঙ্ক — ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামলেন মানুষ

রোববার গভীর রাতে ভুটানের পুনাখায় ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং সেই কম্পন ঢাকাসহ বাংলাদেশের একাধিক জেলায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে হওয়া এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের মানুষকে ঘুমের মধ্যে ধড়ফড়িয়ে জাগিয়ে তোলে। কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে পড়েন।

কোথায় ছিল ভূমিকম্পের উৎস

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা জেলা থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র ইএমএসসি মাত্রা ৫.৬ উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমিক অবজার্ভেশন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা নিশ্চিত করেছেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩২ কিলোমিটার উত্তরে। কম্পন বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল ও চীনেও অনুভূত হয়েছে।

ঢাকায় কতটুকু কম্পন হয়েছে

ঢাকার বাসিন্দারা জানান, কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। বিশেষত উঁচু ভবনে থাকা মানুষজন বেশি কম্পন অনুভব করেছেন। অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন, কেউ কেউ সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নামেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কম্পনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় শত শত পোস্ট। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ একে অপরকে ফোন করে খোঁজখবর নেন।

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কতটুকু

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়। গত নভেম্বর ২০২৫-এ নারায়ণগঞ্জের মাধবদীতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং শতাধিক আহত হয়েছিলেন। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

রাতে কম্পন হওয়ায় আতঙ্ক বেশি ছড়িয়েছে

দিনের বেলায় ভূমিকম্প হলে মানুষ সাধারণত আরও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়। বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে টেবিল বা শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।

ভুটানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন রাতে ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বড় ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভুটানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে রাতের ঢাকা কেঁপে উঠেছে, হতাহত নেই তবে আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন হাজারো মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দিনে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

ভুটানে ভূমিকম্প, রাতের ঢাকায় আতঙ্ক — ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামলেন মানুষ

০৭:২১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

রোববার গভীর রাতে ভুটানের পুনাখায় ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং সেই কম্পন ঢাকাসহ বাংলাদেশের একাধিক জেলায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে হওয়া এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের মানুষকে ঘুমের মধ্যে ধড়ফড়িয়ে জাগিয়ে তোলে। কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে পড়েন।

কোথায় ছিল ভূমিকম্পের উৎস

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা জেলা থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র ইএমএসসি মাত্রা ৫.৬ উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিসমিক অবজার্ভেশন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা নিশ্চিত করেছেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩২ কিলোমিটার উত্তরে। কম্পন বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল ও চীনেও অনুভূত হয়েছে।

ঢাকায় কতটুকু কম্পন হয়েছে

ঢাকার বাসিন্দারা জানান, কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। বিশেষত উঁচু ভবনে থাকা মানুষজন বেশি কম্পন অনুভব করেছেন। অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন, কেউ কেউ সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নামেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কম্পনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় শত শত পোস্ট। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ একে অপরকে ফোন করে খোঁজখবর নেন।

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কতটুকু

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়। গত নভেম্বর ২০২৫-এ নারায়ণগঞ্জের মাধবদীতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং শতাধিক আহত হয়েছিলেন। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

রাতে কম্পন হওয়ায় আতঙ্ক বেশি ছড়িয়েছে

দিনের বেলায় ভূমিকম্প হলে মানুষ সাধারণত আরও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়। বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে টেবিল বা শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।

ভুটানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন রাতে ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বড় ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভুটানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে রাতের ঢাকা কেঁপে উঠেছে, হতাহত নেই তবে আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন হাজারো মানুষ।