০৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

নর্দমা, আবর্জনা আর মর্যাদার রাজনীতি

সমাজের সবচেয়ে অপরিহার্য কাজগুলোর অনেকই এমন মানুষের কাঁধে নির্ভর করে, যাদের উপস্থিতি আমরা প্রায় লক্ষ্যই করি না। শহর পরিষ্কার থাকে, রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী থাকে, রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে থাকে—কিন্তু যারা প্রতিদিন আমাদের ফেলে দেওয়া বর্জ্য সরিয়ে নেয়, তাদের জীবন, শ্রম ও অভিজ্ঞতা সাধারণত জনআলোচনার বাইরে থেকে যায়। এই অদৃশ্যতাই সাইমন পারে-পুপারের স্মৃতিকথা ‘ট্র্যাশ!: এ গারবেজম্যানস স্টোরি’-কে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। বইটি কেবল একজন আবর্জনা সংগ্রাহকের কর্মজীবনের বিবরণ নয়; এটি শ্রম, মর্যাদা, শ্রেণি ও সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে এক গভীর রাজনৈতিক বক্তব্য।

আধুনিক সমাজে পেশার একটি অদৃশ্য শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। কিছু কাজকে আমরা সম্মানজনক বলে মনে করি, কিছু কাজকে সহ্য করি, আর কিছু কাজকে প্রয়োজনীয় হলেও সামাজিকভাবে নিচু বলে বিবেচনা করি। আবর্জনা সংগ্রহের কাজ সেই শেষ শ্রেণির মধ্যেই পড়ে। অথচ শহুরে জীবনের স্বাভাবিক চলাচল এই শ্রম ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। পারে-পুপার্টের অভিজ্ঞতা দেখায়, মানুষ প্রায়ই আবর্জনা সংগ্রাহকদের সেই বর্জ্যের সঙ্গেই একাকার করে ফেলে, যা তারা সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে কাজটি যেমন কঠিন, তেমনি সামাজিক দৃষ্টিতেও অবমূল্যায়িত।

এই বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে করুণা বা রোমান্টিকতার চোখে দেখে না। লেখক নিজের পেশাকে নিয়ে গর্বিত, কিন্তু অন্ধ নন। তিনি জানেন কাজটির নির্মম শারীরিক চাপ, ঝুঁকি ও অবহেলার ইতিহাস। দীর্ঘ পথ দৌড়ে দৌড়ে কাজ করা, ভারী ও অনিরাপদ বস্তু বহন করা, কাচ, পেরেক কিংবা পচনশীল বর্জ্যের মধ্যে প্রতিদিন সময় কাটানো—এসব কেবল কর্মস্থলের চ্যালেঞ্জ নয়; এগুলো শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আঘাতও তৈরি করে।

তবু আশ্চর্যের বিষয়, বইটির কেন্দ্রে কষ্ট নয়, বরং এক ধরনের পেশাগত আত্মপরিচয়। পারে-পুপার্ট দেখান যে শ্রমের মূল্য কেবল আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মস্থলের বন্ধুত্ব, সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা বিশেষ সম্পর্ক, প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা—এসবও মানুষের জীবনে অর্থ তৈরি করে। এমনকি অনেকের জন্য এই কাজ বিপথগামী জীবন থেকে ফিরে আসার সুযোগও হয়ে ওঠে। যারা আসক্তি, সহিংসতা বা সামাজিক প্রান্তিকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে এই কঠিন শ্রম এক ধরনের শৃঙ্খলা ও স্থিতি এনে দেয়।

বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ভোগবাদী সমাজের সমালোচনা। একজন আবর্জনা সংগ্রাহক প্রতিদিন মানুষের পরিত্যক্ত জিনিসের পাহাড়ের মুখোমুখি হন। ফলে তিনি অন্যদের চেয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পান আমরা কীভাবে ব্যবহার করি, অপচয় করি এবং ফেলে দিই। পারে-পুপার্টের কাছে আবর্জনা কেবল বর্জ্য নয়; এটি একটি সামাজিক দলিল। মানুষের জীবনযাপন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ভোগের সংস্কৃতি এবং পরিবেশগত সংকট—সবকিছুর চিহ্ন সেখানে লুকিয়ে থাকে।

Politics - Lloyd Law College

এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তথাকথিত ‘ফ্রিগান’ দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা অতিরিক্ত ভোগ ও অপচয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমা হওয়া বর্জ্য দেখার পর তার কাছে প্রশ্নটি আর তাত্ত্বিক থাকে না। কীভাবে একটি সমাজ এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করে আবার একই গতিতে তা ফেলে দিতে পারে—এই প্রশ্ন তাকে তাড়া করে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পারে-পুপার্ট কেবল মাঠপর্যায়ের শ্রমিক নন; তিনি উচ্চশিক্ষিতও। সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফলে তার পর্যবেক্ষণ একদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, অন্যদিকে বৌদ্ধিক বিশ্লেষণেও গভীর। তিনি শ্রমজীবী মানুষের অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক ভাষায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন না; বরং দেখান যে চিন্তা ও শ্রম পরস্পরের বিপরীত নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে শ্রমিক, পাঠক ও চিন্তক হতে পারেন।

এই কারণেই বইটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথার সীমানা অতিক্রম করে। এটি আমাদের বাধ্য করে ভাবতে—কোন কাজকে আমরা মর্যাদা দিই এবং কেন? কেন কিছু শ্রম সমাজের কেন্দ্রে থেকেও সাংস্কৃতিকভাবে প্রান্তিক? কেন শহর পরিষ্কার রাখার মানুষগুলোকে আমরা প্রায়শই দেখতে পাই না?

আসলে আবর্জনা সংগ্রাহকদের গল্প আমাদের নিজেদের গল্পও। আমরা যা ফেলে দিই, তা শুধু বস্তু নয়; অনেক সময় তা আমাদের সামাজিক মনোভাবেরও প্রতিফলন। পারে-পুপার্টের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় যে সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর একটি দাঁড়িয়ে আছে এমন মানুষের শ্রমের ওপর, যাদের আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

সম্ভবত এই বইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন এখানেই। এটি পাঠককে আবর্জনার দিকে নতুন করে তাকাতে শেখায় না; বরং আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া মানুষগুলোর দিকে তাকাতে বাধ্য করে। আর সেই দৃষ্টির পরিবর্তনই হয়তো সমাজকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

নর্দমা, আবর্জনা আর মর্যাদার রাজনীতি

০৮:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

সমাজের সবচেয়ে অপরিহার্য কাজগুলোর অনেকই এমন মানুষের কাঁধে নির্ভর করে, যাদের উপস্থিতি আমরা প্রায় লক্ষ্যই করি না। শহর পরিষ্কার থাকে, রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী থাকে, রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে থাকে—কিন্তু যারা প্রতিদিন আমাদের ফেলে দেওয়া বর্জ্য সরিয়ে নেয়, তাদের জীবন, শ্রম ও অভিজ্ঞতা সাধারণত জনআলোচনার বাইরে থেকে যায়। এই অদৃশ্যতাই সাইমন পারে-পুপারের স্মৃতিকথা ‘ট্র্যাশ!: এ গারবেজম্যানস স্টোরি’-কে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। বইটি কেবল একজন আবর্জনা সংগ্রাহকের কর্মজীবনের বিবরণ নয়; এটি শ্রম, মর্যাদা, শ্রেণি ও সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে এক গভীর রাজনৈতিক বক্তব্য।

আধুনিক সমাজে পেশার একটি অদৃশ্য শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। কিছু কাজকে আমরা সম্মানজনক বলে মনে করি, কিছু কাজকে সহ্য করি, আর কিছু কাজকে প্রয়োজনীয় হলেও সামাজিকভাবে নিচু বলে বিবেচনা করি। আবর্জনা সংগ্রহের কাজ সেই শেষ শ্রেণির মধ্যেই পড়ে। অথচ শহুরে জীবনের স্বাভাবিক চলাচল এই শ্রম ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। পারে-পুপার্টের অভিজ্ঞতা দেখায়, মানুষ প্রায়ই আবর্জনা সংগ্রাহকদের সেই বর্জ্যের সঙ্গেই একাকার করে ফেলে, যা তারা সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে কাজটি যেমন কঠিন, তেমনি সামাজিক দৃষ্টিতেও অবমূল্যায়িত।

এই বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে করুণা বা রোমান্টিকতার চোখে দেখে না। লেখক নিজের পেশাকে নিয়ে গর্বিত, কিন্তু অন্ধ নন। তিনি জানেন কাজটির নির্মম শারীরিক চাপ, ঝুঁকি ও অবহেলার ইতিহাস। দীর্ঘ পথ দৌড়ে দৌড়ে কাজ করা, ভারী ও অনিরাপদ বস্তু বহন করা, কাচ, পেরেক কিংবা পচনশীল বর্জ্যের মধ্যে প্রতিদিন সময় কাটানো—এসব কেবল কর্মস্থলের চ্যালেঞ্জ নয়; এগুলো শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আঘাতও তৈরি করে।

তবু আশ্চর্যের বিষয়, বইটির কেন্দ্রে কষ্ট নয়, বরং এক ধরনের পেশাগত আত্মপরিচয়। পারে-পুপার্ট দেখান যে শ্রমের মূল্য কেবল আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মস্থলের বন্ধুত্ব, সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা বিশেষ সম্পর্ক, প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা—এসবও মানুষের জীবনে অর্থ তৈরি করে। এমনকি অনেকের জন্য এই কাজ বিপথগামী জীবন থেকে ফিরে আসার সুযোগও হয়ে ওঠে। যারা আসক্তি, সহিংসতা বা সামাজিক প্রান্তিকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে এই কঠিন শ্রম এক ধরনের শৃঙ্খলা ও স্থিতি এনে দেয়।

বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ভোগবাদী সমাজের সমালোচনা। একজন আবর্জনা সংগ্রাহক প্রতিদিন মানুষের পরিত্যক্ত জিনিসের পাহাড়ের মুখোমুখি হন। ফলে তিনি অন্যদের চেয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পান আমরা কীভাবে ব্যবহার করি, অপচয় করি এবং ফেলে দিই। পারে-পুপার্টের কাছে আবর্জনা কেবল বর্জ্য নয়; এটি একটি সামাজিক দলিল। মানুষের জীবনযাপন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ভোগের সংস্কৃতি এবং পরিবেশগত সংকট—সবকিছুর চিহ্ন সেখানে লুকিয়ে থাকে।

Politics - Lloyd Law College

এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তথাকথিত ‘ফ্রিগান’ দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা অতিরিক্ত ভোগ ও অপচয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমা হওয়া বর্জ্য দেখার পর তার কাছে প্রশ্নটি আর তাত্ত্বিক থাকে না। কীভাবে একটি সমাজ এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করে আবার একই গতিতে তা ফেলে দিতে পারে—এই প্রশ্ন তাকে তাড়া করে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পারে-পুপার্ট কেবল মাঠপর্যায়ের শ্রমিক নন; তিনি উচ্চশিক্ষিতও। সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফলে তার পর্যবেক্ষণ একদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, অন্যদিকে বৌদ্ধিক বিশ্লেষণেও গভীর। তিনি শ্রমজীবী মানুষের অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক ভাষায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন না; বরং দেখান যে চিন্তা ও শ্রম পরস্পরের বিপরীত নয়। একজন মানুষ একই সঙ্গে শ্রমিক, পাঠক ও চিন্তক হতে পারেন।

এই কারণেই বইটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথার সীমানা অতিক্রম করে। এটি আমাদের বাধ্য করে ভাবতে—কোন কাজকে আমরা মর্যাদা দিই এবং কেন? কেন কিছু শ্রম সমাজের কেন্দ্রে থেকেও সাংস্কৃতিকভাবে প্রান্তিক? কেন শহর পরিষ্কার রাখার মানুষগুলোকে আমরা প্রায়শই দেখতে পাই না?

আসলে আবর্জনা সংগ্রাহকদের গল্প আমাদের নিজেদের গল্পও। আমরা যা ফেলে দিই, তা শুধু বস্তু নয়; অনেক সময় তা আমাদের সামাজিক মনোভাবেরও প্রতিফলন। পারে-পুপার্টের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় যে সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর একটি দাঁড়িয়ে আছে এমন মানুষের শ্রমের ওপর, যাদের আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

সম্ভবত এই বইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন এখানেই। এটি পাঠককে আবর্জনার দিকে নতুন করে তাকাতে শেখায় না; বরং আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া মানুষগুলোর দিকে তাকাতে বাধ্য করে। আর সেই দৃষ্টির পরিবর্তনই হয়তো সমাজকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক করে তুলতে পারে।