মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের লাখো প্রবাসী পরিবারের জীবনে সরাসরি আঘাত করছে। সৌদি আরবের একটি শ্রমিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নরসিংদীর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন নিহত হয়েছেন। ১৫ বছর ধরে প্রবাসে থেকে সঞ্চয় করে দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি — তার ছয় বছরের সন্তান তাকে জীবনে মাত্র একবার দেখেছিল।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কতটা বিপর্যস্ত প্রবাসীরা
ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম নয় দিনেই প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এখন পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় ৫৫,০০০ যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শ্রমিক। অনেকে ছুটিতে দেশে এসে আর ফিরতে পারছেন না, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা যেতে পারছেন না। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও লেবাননে অন্তত সাতজন বাংলাদেশি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কতজন বাংলাদেশি ঝুঁকিতে আছেন
বর্তমানে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত ছয়টি দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই আছেন প্রায় ২৬ লাখ। এই শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের মোট রেমিট্যা
বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়ার দ্বার খোলার চেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তার মাঝে সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২৪ সালের জুন থেকে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দিলে লাখো কর্মী বিকল্প গন্তব্য পাবেন। মালয়েশিয়ায় এখনো প্রায় ছয় লাখ বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে।
লেবাননে আটকা বাংলাদেশিরা
লেবাননে কর্মরত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি বর্তমানে বেতনহীন অবস্থায় আছেন। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে লেবাননে নির্মাণ ও ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে নেত্রকোণা, নরসিংদীর মতো গ্রামাঞ্চলে থাকা পরিবারে আর অর্থ পাঠাতে পারছেন না।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবনে মৃত্যু, অনিশ্চয়তা আর ক্ষুধার গল্প লিখছে। ৪৫ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধের গতিপথের উপর।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত, ফ্লাইট বাতিলে ৪৫ লাখ প্রবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















