পাঁচটি সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ব্যাংকটির নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগের ঘোষণা দেয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কাজী শাইরুল হাসানকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান সিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, তারা নিজ নিজ দায়িত্বে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা
নতুন চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান এর আগে সৌদি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (সাবিনকো)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাংকারের নেতৃত্ব সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে করপোরেট সুশাসন জোরদার, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় বড় পদক্ষেপ
সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগকে চলমান কাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং পরিচালন কাঠামোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছিল সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমকে একটি একক কাঠামোর আওতায় এনে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। নতুন নেতৃত্বের অধীনে ব্যাংকটির সংস্কার কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















