০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
রাশিয়া থেকে ইউরিয়া আমদানি ও চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুই চুক্তির অনুমোদন বাংলাদেশে হাম প্রাদুর্ভাব: আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬১ চীনের হুয়াংইয়ান দাওয়ে মিলল ৫০টির বেশি বিপন্ন সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ শ্বেতপত্র প্রকাশ, বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নতুন বার্তা নওগাঁয় রেলস্টেশনের কাছে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের হেফাজতকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ: ‘ওপর মহলের নির্দেশে সংবাদ করেছি’ দাবি রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর দেড় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে কারাগারে দুই বছরের শিশু, কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দি জীবনের বাস্তবতা যুদ্ধাপরাধের বিচার নাকি মতপ্রকাশের শাস্তি? বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ট্রাম্প-সমর্থিত ‘টাইগার’ প্রার্থীকে ঘিরে কলম্বিয়ায় বিতর্ক, নারীদের ভোটে স্পষ্ট বিভাজন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবিত্ত, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প, নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে শঙ্কায় কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে কংগ্রেসের নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা নির্ধারণকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন রাজ্য দ্রুতগতিতে নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্গঠন করায় ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন এক প্রজন্মের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক চিত্রে সবচেয়ে বড় রদবদল ঘটাতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বদলে গেল পরিস্থিতি

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি রায় দেয়, যা ভোটাধিকার সুরক্ষার দীর্ঘদিনের আইনি কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় বলে সমালোচকদের দাবি। এর পরপরই টেনেসি, লুইজিয়ানা, আলাবামা ও ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি রাজ্যে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র প্রণয়নের উদ্যোগ শুরু হয়।

অনেক ক্ষেত্রে এমন নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠন করা হয়েছে, যেখানে আগে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিছু আসনের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

People marching with signs.

কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ

দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বসবাস করে। ঐতিহাসিকভাবে এসব অঞ্চলের অনেক নির্বাচনী এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রভাবের কারণে কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

নতুন মানচিত্রের ফলে সেই প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু নির্বাচনী জয়ের প্রশ্ন নয়; বরং এমন জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর রক্ষার বিষয়, যারা দীর্ঘদিন বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে।

অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার মনে করছেন, এই পরিবর্তন তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

রিপাবলিকানদের ভিন্ন যুক্তি

রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, নতুন মানচিত্র তৈরির মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করা। তারা বলছেন, কোনো ভোটার নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট না দিলেও তার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।

A woman in a wheelchair carries a sign and raises her fist.

এদিকে কিছু ভোটার মনে করেন, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে বর্ণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় করা উচিত নয়। তাদের মতে, প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি হওয়া উচিত ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত বাস্তবতা।

ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি

নতুন মানচিত্র নিয়ে বিতর্কের কারণে অনেক রাজ্যে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরও নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিয়ে আলোচনা চলেছে। কিছু নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার নতুন সীমানার ভিত্তিতে নতুন প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

ভোটারদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে এমন বড় পরিবর্তন আনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অস্বস্তিকর এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ে।

নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা

People in a legislative chamber room.

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং অধিকারকর্মীরা এখন নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছেন। তারা ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

তাদের বিশ্বাস, নির্বাচনী মানচিত্র বদলালেও ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে, যা ভোটারদের নতুন উদ্দীপনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনর্বিন্যাস শুধু কয়েকটি নির্বাচনী আসনের ফলাফল বদলাবে না; বরং আগামী বছরগুলোতে দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রতিনিধিত্বের ধরন এবং জাতিগত রাজনীতির গতিপথও নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারে।

A man looks over a screen at someone in the foreground.

 

Someone standing on a desk with a banner that includes the words, "No Jim Crow."

 

People gathered in front of a building.

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া থেকে ইউরিয়া আমদানি ও চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুই চুক্তির অনুমোদন

মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প, নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে শঙ্কায় কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব

১০:৪৭:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে কংগ্রেসের নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা নির্ধারণকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন রাজ্য দ্রুতগতিতে নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্গঠন করায় ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন এক প্রজন্মের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক চিত্রে সবচেয়ে বড় রদবদল ঘটাতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বদলে গেল পরিস্থিতি

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি রায় দেয়, যা ভোটাধিকার সুরক্ষার দীর্ঘদিনের আইনি কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় বলে সমালোচকদের দাবি। এর পরপরই টেনেসি, লুইজিয়ানা, আলাবামা ও ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি রাজ্যে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র প্রণয়নের উদ্যোগ শুরু হয়।

অনেক ক্ষেত্রে এমন নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠন করা হয়েছে, যেখানে আগে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিছু আসনের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

People marching with signs.

কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ

দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বসবাস করে। ঐতিহাসিকভাবে এসব অঞ্চলের অনেক নির্বাচনী এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রভাবের কারণে কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

নতুন মানচিত্রের ফলে সেই প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু নির্বাচনী জয়ের প্রশ্ন নয়; বরং এমন জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর রক্ষার বিষয়, যারা দীর্ঘদিন বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে।

অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার মনে করছেন, এই পরিবর্তন তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

রিপাবলিকানদের ভিন্ন যুক্তি

রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, নতুন মানচিত্র তৈরির মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করা। তারা বলছেন, কোনো ভোটার নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট না দিলেও তার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।

A woman in a wheelchair carries a sign and raises her fist.

এদিকে কিছু ভোটার মনে করেন, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে বর্ণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় করা উচিত নয়। তাদের মতে, প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি হওয়া উচিত ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত বাস্তবতা।

ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি

নতুন মানচিত্র নিয়ে বিতর্কের কারণে অনেক রাজ্যে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরও নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিয়ে আলোচনা চলেছে। কিছু নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার নতুন সীমানার ভিত্তিতে নতুন প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

ভোটারদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে এমন বড় পরিবর্তন আনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অস্বস্তিকর এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ে।

নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা

People in a legislative chamber room.

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং অধিকারকর্মীরা এখন নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছেন। তারা ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

তাদের বিশ্বাস, নির্বাচনী মানচিত্র বদলালেও ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে, যা ভোটারদের নতুন উদ্দীপনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনর্বিন্যাস শুধু কয়েকটি নির্বাচনী আসনের ফলাফল বদলাবে না; বরং আগামী বছরগুলোতে দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রতিনিধিত্বের ধরন এবং জাতিগত রাজনীতির গতিপথও নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারে।

A man looks over a screen at someone in the foreground.

 

Someone standing on a desk with a banner that includes the words, "No Jim Crow."

 

People gathered in front of a building.