বিশ্ব অর্থনীতি গত কয়েক বছরে একের পর এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মহামারি, যুদ্ধ, বাণিজ্যিক অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তার মতে, যথাযথ প্রস্তুতি না থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বজুড়ে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্বে ধাক্কার যুগ শেষ হয়নি
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, বিশ্ব এমন এক সময়ে প্রবেশ করেছে যেখানে বড় ধরনের ধাক্কা ও সংকট বারবার ফিরে আসবে। তাই দেশগুলোকে এমন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে যা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সামাল দিতে সক্ষম হবে।
তার মতে, অনেকেই এখনও উপলব্ধি করতে পারছেন না যে ভবিষ্যতের বিশ্বে সংকটই হবে নতুন বাস্তবতা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ
আইএমএফ প্রধানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং এর প্রভাব শ্রমবাজার ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর কীভাবে পড়বে তা নিয়ে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বিশ্বায়নের সময় সামগ্রিক অর্থনীতি লাভবান হলেও বহু অঞ্চলে কর্মসংস্থান হারিয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছিল।
জর্জিয়েভার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও যদি একই ভুল পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে অনেক মানুষ ও সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই এখন থেকেই নীতিনির্ধারকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাইয়ে আসছে নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস
চলতি বছরের জুলাই মাসে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে আইএমএফ। এর আগে এপ্রিল মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে সংস্থাটি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছিল।
আইএমএফ নিয়মিতভাবে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করে থাকে।
![]()
রাশিয়া মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনাও একসময় বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দাবি করেছিল, এতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রচেষ্টাকে বৈধতা দেওয়া হতে পারে।
জর্জিয়েভা বলেন, সে সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ভবিষ্যতে কোনো এক সময় রাশিয়ার নিয়মিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন আবার শুরু হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে আইএমএফ একাধিক আর্থিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইএমএফ প্রধানের মতে, ভবিষ্যতের বৈষম্য রোধে এখনই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















