জাপানের বড় বড় কোম্পানিগুলো এ বছর শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে রেকর্ডসংখ্যক প্রস্তাবের মুখোমুখি হয়েছে। মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভাগুলোর আগে সক্রিয় বিনিয়োগকারীরা করপোরেট পরিচালনা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার নিয়ে আগের চেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছেন।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৫১টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ১৩৯টি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৩৭। বিশেষ করে পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি
এবারের প্রস্তাবগুলোর একটি বড় অংশ সরাসরি কোম্পানির নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এসেছে। কিছু বিনিয়োগকারী দুর্বল আর্থিক ফলাফল বা পরিচালনাগত ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

একটি ক্ষেত্রে একটি বিনিয়োগ তহবিল কিয়োসেরার চেয়ারম্যান গোরো ইয়ামাগুচিকে অপসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের আয় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।
অন্যদিকে রোহতো ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান কুনিও ইয়ামাদার অপসারণের দাবিও উঠেছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছে, কোম্পানির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।
করপোরেট সংস্কারের ওপর জোর
বিশ্লেষকদের মতে, এখন অনেক শেয়ারহোল্ডার এমন প্রস্তাব দিচ্ছেন যেগুলো তুলনামূলকভাবে সহজে সমর্থন পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার, স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ এবং করপোরেট সুশাসন শক্তিশালী করার উদ্যোগ।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে রয়েছে অথবা বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছে, সেসব কোম্পানিতে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বাড়ছে
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের করপোরেট সংস্কৃতিতে ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অতীতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা সীমিত থাকলেও এখন বিনিয়োগকারীরা তাদের অধিকার আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কেলেঙ্কারি, দুর্বল সুশাসন বা ব্যবসায়িক ব্যর্থতা দেখা দিলে কোম্পানির প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার হারও কমে যায়। ফলে পরিচালনা পর্ষদকে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তাদের ধারণা, ভবিষ্যতেও শেয়ারহোল্ডারদের প্রস্তাব ও সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের প্রভাব আরও বাড়বে এবং জাপানের করপোরেট খাতে সংস্কারের গতি ত্বরান্বিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















