ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ৪০ মরদেহ ধারণক্ষমতার কুলার হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়ায় মরদেহ সংরক্ষণ ও ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে কুলারটি অচল থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন মরদেহ গ্রহণেও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
মর্গ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত মেরামতের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এক সপ্তাহ ধরে অচল কুলার
ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের পক্ষ থেকে হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২ জুন থেকে মর্গের প্রধান কুলারটি বিকল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে মরদেহ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত ময়নাতদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিভাগটি বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
ধারণক্ষমতা কমে মাত্র সাত মরদেহে
মর্গের কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪০টি মরদেহ সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকলেও কুলার বিকল হওয়ার পর বর্তমানে মাত্র সাতটি মরদেহ রাখা সম্ভব হচ্ছে। এতে নতুন মরদেহ গ্রহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে মরদেহ দ্রুত পচন ধরতে পারে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বারান্দা ও মেঝেতে রাখা হচ্ছে মরদেহ
কর্মীরা জানান, জায়গার সংকটের কারণে কিছু মরদেহ মর্গের বারান্দা ও কক্ষের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। এতে কর্মপরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে এবং দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দুর্গন্ধের কারণে কর্মীদের পাশাপাশি আশপাশের পথ ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দ্রুত সমাধানের আশায় কর্তৃপক্ষ
মর্গের এই কুলারটি বিদেশি একটি সংস্থার সহায়তায় স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে এটি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মর্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মরদেহ সংরক্ষণ ও ফরেনসিক সেবার ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















