০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, ঝুঁকিও কম নয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও ওলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ জাপানে ভয়াবহ বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে নিহত ৯, ডুবেছে হাজারের বেশি ঘর জ্বালানি ভর্তুকি শেষ হলেই কেন মূল্যস্ফীতির আগুন জ্বলে ওঠে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর মক্কা চুক্তিতে মিসরকে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে চান এরদোয়ান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস বাংলাদেশের, ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক, মেসির মায়ামির টানা তৃতীয় হার ফিলিস্তিনিদের পানিতে বসতি স্থাপনকারীদের সুইমিংপুল, পশ্চিম তীরে নতুন ‘পানিযুদ্ধ’ ল্যাম্বরগিনির সবচেয়ে শক্তিশালী উৎপাদন গাড়ি, নতুন রেভুয়েলতো এসভি-তে গতি ও প্রযুক্তির বিস্ময়

হোন্ডার প্রধান নির্বাহীকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ, বোর্ডের সমর্থনে টিকে গেলেন মিবে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডার ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন প্রভাবশালী সাবেক কর্মকর্তা প্রধান নির্বাহী তোশিহিরো মিবেকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বোর্ডের সমর্থন পেয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

হোন্ডার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিষ্ঠানটির অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত বছরের শেষ দিক থেকে নিয়মিত আলোচনা শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মিবের নেতৃত্বে হোন্ডা বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার চীনে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত কোম্পানিকে আর্থিক চাপে ফেলেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চীন বাজারে পিছিয়ে পড়া

Auto Shanghai show, in Shanghai

হোন্ডার সমালোচকদের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল চীনকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া। একসময় দেশটির বাজারে শক্ত অবস্থান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হোন্ডার অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দ্রুত পরিবর্তিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা নির্মাতারা এগিয়ে যাওয়ায় জাপানি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

বৈদ্যুতিক গাড়ি কৌশলে ধাক্কা

মিবে আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ২০৪০ সালের মধ্যে হোন্ডা সম্পূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক গাড়িনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তবে সম্প্রতি কোম্পানি সেই পরিকল্পনার কিছু অংশ থেকে সরে এসেছে। উন্নয়নাধীন কয়েকটি প্রকল্প বাতিল করায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিও স্বীকার করতে হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ডের আস্থা বজায়

সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ সত্ত্বেও হোন্ডার পরিচালনা পর্ষদ মিবের ওপর আস্থা রাখে। কোম্পানির মনোনয়ন কমিটি তার নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানি কোম্পানিগুলোতে স্বাধীন পরিচালকদের ভূমিকা বাড়ায় সাবেক কর্মকর্তাদের প্রভাব আগের তুলনায় কমেছে বলেও জানা গেছে।

How Honda's old guard tried, and failed, to oust its CEO | MarketScreener

চ্যালেঞ্জের মুখে হোন্ডা

হোন্ডা বর্তমানে একাধিক চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে বিনিয়োগের চাপ বাড়ছে এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক নীতির প্রভাবও কোম্পানির ওপর পড়ছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে খরচ কমানো, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং হাইব্রিড গাড়ি ব্যবসা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আগামী পথ কতটা কঠিন

বিশ্লেষকদের মতে, হোন্ডার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঐতিহ্যগত ব্যবসা টিকিয়ে রেখে দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পের সঙ্গে তাল মেলানো। মিবে আপাতত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও কোম্পানির ভবিষ্যৎ সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে তার নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, ঝুঁকিও কম নয়

হোন্ডার প্রধান নির্বাহীকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ, বোর্ডের সমর্থনে টিকে গেলেন মিবে

০২:২০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডার ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন প্রভাবশালী সাবেক কর্মকর্তা প্রধান নির্বাহী তোশিহিরো মিবেকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বোর্ডের সমর্থন পেয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

হোন্ডার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিষ্ঠানটির অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত বছরের শেষ দিক থেকে নিয়মিত আলোচনা শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মিবের নেতৃত্বে হোন্ডা বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার চীনে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত কোম্পানিকে আর্থিক চাপে ফেলেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চীন বাজারে পিছিয়ে পড়া

Auto Shanghai show, in Shanghai

হোন্ডার সমালোচকদের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল চীনকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া। একসময় দেশটির বাজারে শক্ত অবস্থান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হোন্ডার অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দ্রুত পরিবর্তিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা নির্মাতারা এগিয়ে যাওয়ায় জাপানি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

বৈদ্যুতিক গাড়ি কৌশলে ধাক্কা

মিবে আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ২০৪০ সালের মধ্যে হোন্ডা সম্পূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক গাড়িনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তবে সম্প্রতি কোম্পানি সেই পরিকল্পনার কিছু অংশ থেকে সরে এসেছে। উন্নয়নাধীন কয়েকটি প্রকল্প বাতিল করায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিও স্বীকার করতে হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ডের আস্থা বজায়

সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ সত্ত্বেও হোন্ডার পরিচালনা পর্ষদ মিবের ওপর আস্থা রাখে। কোম্পানির মনোনয়ন কমিটি তার নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানি কোম্পানিগুলোতে স্বাধীন পরিচালকদের ভূমিকা বাড়ায় সাবেক কর্মকর্তাদের প্রভাব আগের তুলনায় কমেছে বলেও জানা গেছে।

How Honda's old guard tried, and failed, to oust its CEO | MarketScreener

চ্যালেঞ্জের মুখে হোন্ডা

হোন্ডা বর্তমানে একাধিক চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে বিনিয়োগের চাপ বাড়ছে এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক নীতির প্রভাবও কোম্পানির ওপর পড়ছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে খরচ কমানো, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং হাইব্রিড গাড়ি ব্যবসা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আগামী পথ কতটা কঠিন

বিশ্লেষকদের মতে, হোন্ডার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঐতিহ্যগত ব্যবসা টিকিয়ে রেখে দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পের সঙ্গে তাল মেলানো। মিবে আপাতত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও কোম্পানির ভবিষ্যৎ সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে তার নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।