০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ বিটিএস-মাডোনা-শাকিরা একসঙ্গে, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো দৃশ্যম ৩ আগামীকাল অ্যামাজন প্রাইমে, ৩৩০ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার এবার ঘরে বসেই দেখুন রাইজের নতুন অ্যালবাম ‘II’ প্রথম দিনেই ৯ লাখ কপি বিক্রি, ‘Do Your Dance’ এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং চার বছর পর মাঠে বিটিএস, পুসানে দুই রাতে ১,১০,০০০ দর্শক ঝড় তুলল বিশ্বকাপ অভিষেকেই হ্যালান্ডের জোড়া গোল, নরওয়ে ইরাককে ৪-১ উড়িয়ে দিল আজ রাতে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া, মডরিচের শেষ বিশ্বকাপে ২০১৮-এর প্রতিশোধের সুযোগ এমবাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা, সেনেগালের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জোড়া গোলে রেকর্ড মেসির হ্যাট্রিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু, কিলোজের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁলেন বৃষ্টির ৯০% আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ম্যাচ, ডিএলএস নিয়মে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা

নতুন প্রজন্মের রাজনীতি: আঞ্চলিক পরিচয়ের গণ্ডি কি সত্যিই ভেঙে যাচ্ছে?

ভারতের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থান একসময় ছিল গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে রাজ্যভিত্তিক স্বার্থ, ভাষাগত পরিচয়, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় দাবিকে সামনে এনে এসব দল রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্ন উঠছে—সেই ঐতিহাসিক প্রয়োজন কি এখনও আগের মতো শক্তিশালী আছে, নাকি দেশের নতুন সামাজিক বাস্তবতা রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিচ্ছে?

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা এই বৃহত্তর বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। দলটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, উত্তরাধিকার রাজনীতির অভিযোগ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার আলোচনা কেবল একটি দলের সংকট নয়; এটি ভারতের বহু আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকেও উন্মোচিত করছে।

প্রতিষ্ঠান নয়, নেতৃত্বনির্ভর রাজনীতি

ভারতের অনেক আঞ্চলিক দলের জন্ম হয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ক্ষোভ, নেতৃত্বের বিচ্ছেদ বা ক্ষমতাসীন শক্তির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। এসব দলের সাফল্যের কেন্দ্রে প্রায়শই একজন জনপ্রিয় নেতা বা নেত্রী ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিনির্ভর সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংগঠনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

যে রাজনৈতিক দল অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আদর্শিক প্রশিক্ষণ এবং বহুমাত্রিক নেতৃত্ব গড়ে তোলে, তারা সাধারণত নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধাক্কা সামাল দিতে পারে। অন্যদিকে যেসব সংগঠন একজন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল, সেখানে নেতৃত্ব দুর্বল হলে পুরো কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। নেতৃত্বের ক্যারিশমা যখন সাংগঠনিক শক্তির বিকল্প হয়ে ওঠে, তখন দল একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতা পরিচালনার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।

ক্ষমতা হারানোর পর কেন সংকট তীব্র হয়

অনেক আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক প্রভাব, রাজনৈতিক সুবিধা এবং স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো দলকে একত্রে রাখে। কিন্তু সেই ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল হলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দ্রুত প্রকাশ্যে আসে।

এটি কেবল রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানিতার প্রশ্ন নয়; বরং সংগঠনের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত। যদি কোনো দল কর্মীদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দর্শন বা বৃহত্তর জাতীয় ও সামাজিক লক্ষ্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষমতার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ঐক্যের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।

নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও নতুন বাস্তবতা

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র বা উত্তরাধিকারভিত্তিক নেতৃত্ব নতুন বিষয় নয়। জাতীয় ও আঞ্চলিক—উভয় স্তরেই এর উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভোটারদের প্রত্যাশা বদলেছে। কেবল পারিবারিক পরিচয় বা রাজনৈতিক বংশধারার ওপর নির্ভর করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।

বিশেষত তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ নেতৃত্বকে দক্ষতা, কর্মক্ষমতা এবং জনসংযোগের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে চায়। ফলে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যদি সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনসমর্থনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তা দলীয় অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

The generation that swipes right on revolutions | The Daily Star

নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক পরিচয়

ভারতের নতুন প্রজন্ম এমন এক সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে যেখানে ডিজিটাল যোগাযোগ, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, আন্তঃরাজ্য কর্মসংস্থান এবং সর্বভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রবাহ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাদের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং সামাজিক যোগাযোগের পরিসর অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যের সীমা অতিক্রম করে।

ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আঞ্চলিক গর্ব বা স্থানীয় স্বার্থ এখনও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা সবসময় জাতীয় আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান করছে না। বরং অনেক তরুণ একই সঙ্গে নিজের রাজ্যের পরিচয় এবং বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়কে ধারণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

এ কারণেই কেবল আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্যের ভাষ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ভোটাররা জানতে চাইছে—একটি দল কেন প্রয়োজন, তার রাজনৈতিক দর্শন কী, এবং ভবিষ্যতের জন্য তার পরিকল্পনা কী।

আঞ্চলিক রাজনীতির শেষ নয়, রূপান্তর

তবে এখান থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল হবে যে আঞ্চলিক রাজনীতির যুগ শেষ হয়ে গেছে। ভারতের বৈচিত্র্য এতটাই গভীর যে স্থানীয় প্রশ্ন, ভাষাগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং রাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন চাহিদা ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করবে।

প্রকৃত প্রশ্ন হলো, আঞ্চলিক দলগুলো কি নিজেদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে? তারা কি ব্যক্তিনির্ভর কাঠামো থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংগঠনে রূপান্তরিত হতে পারবে? তারা কি কেবল ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং সুসংহত রাজনৈতিক দর্শন ও নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে সক্ষম হবে?

ভারতের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমাজে টিকে থাকার জন্য আঞ্চলিক দলগুলোর সামনে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমান যুগে কেবল অতীতের সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের বিশ্বাসযোগ্যতাই একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত ভিত্তি।

লেখক: অভিনব প্রকাশ, জাতীয় সহ-সভাপতি, বিজেপি যুব মোর্চা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ

নতুন প্রজন্মের রাজনীতি: আঞ্চলিক পরিচয়ের গণ্ডি কি সত্যিই ভেঙে যাচ্ছে?

১১:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থান একসময় ছিল গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে রাজ্যভিত্তিক স্বার্থ, ভাষাগত পরিচয়, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় দাবিকে সামনে এনে এসব দল রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্ন উঠছে—সেই ঐতিহাসিক প্রয়োজন কি এখনও আগের মতো শক্তিশালী আছে, নাকি দেশের নতুন সামাজিক বাস্তবতা রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিচ্ছে?

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা এই বৃহত্তর বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। দলটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, উত্তরাধিকার রাজনীতির অভিযোগ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার আলোচনা কেবল একটি দলের সংকট নয়; এটি ভারতের বহু আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকেও উন্মোচিত করছে।

প্রতিষ্ঠান নয়, নেতৃত্বনির্ভর রাজনীতি

ভারতের অনেক আঞ্চলিক দলের জন্ম হয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ক্ষোভ, নেতৃত্বের বিচ্ছেদ বা ক্ষমতাসীন শক্তির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। এসব দলের সাফল্যের কেন্দ্রে প্রায়শই একজন জনপ্রিয় নেতা বা নেত্রী ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিনির্ভর সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংগঠনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

যে রাজনৈতিক দল অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আদর্শিক প্রশিক্ষণ এবং বহুমাত্রিক নেতৃত্ব গড়ে তোলে, তারা সাধারণত নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধাক্কা সামাল দিতে পারে। অন্যদিকে যেসব সংগঠন একজন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল, সেখানে নেতৃত্ব দুর্বল হলে পুরো কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। নেতৃত্বের ক্যারিশমা যখন সাংগঠনিক শক্তির বিকল্প হয়ে ওঠে, তখন দল একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতা পরিচালনার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।

ক্ষমতা হারানোর পর কেন সংকট তীব্র হয়

অনেক আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক প্রভাব, রাজনৈতিক সুবিধা এবং স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো দলকে একত্রে রাখে। কিন্তু সেই ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল হলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দ্রুত প্রকাশ্যে আসে।

এটি কেবল রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানিতার প্রশ্ন নয়; বরং সংগঠনের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত। যদি কোনো দল কর্মীদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দর্শন বা বৃহত্তর জাতীয় ও সামাজিক লক্ষ্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষমতার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ঐক্যের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।

নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও নতুন বাস্তবতা

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র বা উত্তরাধিকারভিত্তিক নেতৃত্ব নতুন বিষয় নয়। জাতীয় ও আঞ্চলিক—উভয় স্তরেই এর উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভোটারদের প্রত্যাশা বদলেছে। কেবল পারিবারিক পরিচয় বা রাজনৈতিক বংশধারার ওপর নির্ভর করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।

বিশেষত তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ নেতৃত্বকে দক্ষতা, কর্মক্ষমতা এবং জনসংযোগের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে চায়। ফলে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যদি সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনসমর্থনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তা দলীয় অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

The generation that swipes right on revolutions | The Daily Star

নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক পরিচয়

ভারতের নতুন প্রজন্ম এমন এক সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে যেখানে ডিজিটাল যোগাযোগ, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, আন্তঃরাজ্য কর্মসংস্থান এবং সর্বভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রবাহ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাদের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং সামাজিক যোগাযোগের পরিসর অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যের সীমা অতিক্রম করে।

ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আঞ্চলিক গর্ব বা স্থানীয় স্বার্থ এখনও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা সবসময় জাতীয় আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান করছে না। বরং অনেক তরুণ একই সঙ্গে নিজের রাজ্যের পরিচয় এবং বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়কে ধারণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

এ কারণেই কেবল আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্যের ভাষ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ভোটাররা জানতে চাইছে—একটি দল কেন প্রয়োজন, তার রাজনৈতিক দর্শন কী, এবং ভবিষ্যতের জন্য তার পরিকল্পনা কী।

আঞ্চলিক রাজনীতির শেষ নয়, রূপান্তর

তবে এখান থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল হবে যে আঞ্চলিক রাজনীতির যুগ শেষ হয়ে গেছে। ভারতের বৈচিত্র্য এতটাই গভীর যে স্থানীয় প্রশ্ন, ভাষাগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং রাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন চাহিদা ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করবে।

প্রকৃত প্রশ্ন হলো, আঞ্চলিক দলগুলো কি নিজেদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে? তারা কি ব্যক্তিনির্ভর কাঠামো থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংগঠনে রূপান্তরিত হতে পারবে? তারা কি কেবল ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং সুসংহত রাজনৈতিক দর্শন ও নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে সক্ষম হবে?

ভারতের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমাজে টিকে থাকার জন্য আঞ্চলিক দলগুলোর সামনে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমান যুগে কেবল অতীতের সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের বিশ্বাসযোগ্যতাই একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত ভিত্তি।

লেখক: অভিনব প্রকাশ, জাতীয় সহ-সভাপতি, বিজেপি যুব মোর্চা।