প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আবাসন খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বলছে, এসব পদক্ষেপ নির্মাণ ব্যয় বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধি পাবে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের পর প্রতিক্রিয়ায় রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাত যে ধরনের নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার প্রত্যাশা করেছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

আবাসন খাতে প্রত্যাশিত সহায়তার ঘাটতি
আলী আফজাল জানান, বাজেটের বিস্তারিত পর্যালোচনা এখনও চলমান থাকলেও প্রাথমিকভাবে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে আবাসন খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তামূলক উদ্যোগ নেই। বরং নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক নির্মাণ ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষ করে ইস্পাতের রডের ওপর নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এটি সরাসরি নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ ফ্ল্যাটের দামের মাধ্যমে ক্রেতাদের ওপর এসে পড়বে।
নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি উপেক্ষিত
রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির মতে, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে প্রকৃত লেনদেন বাড়বে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

তবে এবারের বাজেটে সেই দাবির কোনো প্রতিফলন না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে আবাসন বাজারে গতি ফিরতে পারে এবং খাতটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
২৬৯ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আবাসন খাত
রিহ্যাবের মতে, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬৯টি শিল্প খাত যুক্ত রয়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, রিয়েল এস্টেট খাতে মন্দা দেখা দিলে শুধু ডেভেলপার বা ফ্ল্যাট ক্রেতারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না; এর প্রভাব পড়বে ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্য, আসবাবপত্র এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন শিল্পে। এর ফলে লাখো শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের জীবিকাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কী চায় রিহ্যাব

আবাসন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা মানে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা—এমন মন্তব্য করে সরকারকে বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে রিহ্যাব।
সংগঠনটি দীর্ঘমেয়াদে আবাসন খাতের সুস্থ বিকাশের জন্য নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস, আবাসনবান্ধব করনীতি, দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদের অর্থায়নের সুযোগ এবং স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
এদিকে বাজেটে স্বেচ্ছায় বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের সুযোগকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে রিহ্যাব। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে।
ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধি
প্রস্তাবিত বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপে নির্মাণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রিহ্যাব। এতে ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যেতে পারে বলে সংগঠনটির উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















