দেশের আকাশপথ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকারের এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশপথের সংযোগ বাড়ানো এবং বৈশ্বিক বাজারে সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যে গুরুত্ব

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। এতে সীমান্তপারের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল পণ্য পরিবহন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগও নিয়েছে। এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং বাণিজ্যিক দক্ষতা বাড়বে।
দেশজুড়ে বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আধুনিক আঞ্চলিক বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে দেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।
চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন
বিমান চলাচল খাত আধুনিকায়নে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরাদ্দে বৃদ্ধি
আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দ বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। তবে এটি মূল বাজেটে নির্ধারিত ২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার চেয়ে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দর উন্নয়ন ও আকাশপথ সংযোগ সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















