০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
বৈশ্বিক অর্থনীতির ‘মহাভুল’: সংকটের সমাধান মুদ্রার দরে নয় জাতীয় নিরাপত্তার  ওডিসিউস তীব্র লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর ১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা, ঘাটতি ২৫ শতাংশ বন্যার সঙ্গে সহাবস্থান, নদীকে বুঝে বাঁচার শিক্ষা আসামের বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি এডিবি বিনিয়োগ পাইপলাইন, সংস্কারে জোর বাংলাদেশকে ব্যবহার করে এশিয়ায় ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা আল-কায়েদার পানির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়বে নতুন প্রজন্ম হত্যার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের বিমান বদল, গোপনে ছোট সামরিক বিমানে সরানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে তুরস্কে ইরানি হামলার আশঙ্কা, গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হতেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল

সীমান্তে মানুষকে জিরো লাইনে আটকে রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন উদ্বেগ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নারী ও শিশুসহ মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে যেখানে যথাযথ ও স্বচ্ছ পরিচয় যাচাই ছাড়াই কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, কেউ অন্য দেশের নাগরিক বলে সন্দেহভাজন হলেও তাকে অমানবিক, নিষ্ঠুর বা অপমানজনক আচরণের শিকার করা যায় না। মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা তার জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে না।

Bhorer Bani - হত্যা-পুশইনসহ বিএসএফের অপরাধ বন্ধে নয়াদিল্লিকে কড়া বার্তা  দেবে বিজিবি

আইনসম্মত প্রক্রিয়ার আহ্বান

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক নাকি অন্য দেশের নাগরিক—এ ধরনের প্রশ্নের সমাধান অবশ্যই স্বচ্ছ, আইনসম্মত এবং পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো, প্রতিটি মানুষ তার জন্মগত মর্যাদার কারণে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে।

সংগঠনটি বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে অবস্থানরত সব মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে নজরদারি জোরদার

পুশইনে সীমান্তে মানবিক বিপর্যয় | The Daily Adin

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ২৬টি জেলার সীমান্ত এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাও কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন।

এদিকে, সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়া, সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা এবং সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির মতে, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিকতা, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি সম্মান দেখানোই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধানের পথ হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক অর্থনীতির ‘মহাভুল’: সংকটের সমাধান মুদ্রার দরে নয়

সীমান্তে মানুষকে জিরো লাইনে আটকে রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন উদ্বেগ

১০:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নারী ও শিশুসহ মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে যেখানে যথাযথ ও স্বচ্ছ পরিচয় যাচাই ছাড়াই কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, কেউ অন্য দেশের নাগরিক বলে সন্দেহভাজন হলেও তাকে অমানবিক, নিষ্ঠুর বা অপমানজনক আচরণের শিকার করা যায় না। মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা তার জাতীয়তা, ধর্ম, ভাষা বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে না।

Bhorer Bani - হত্যা-পুশইনসহ বিএসএফের অপরাধ বন্ধে নয়াদিল্লিকে কড়া বার্তা  দেবে বিজিবি

আইনসম্মত প্রক্রিয়ার আহ্বান

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক নাকি অন্য দেশের নাগরিক—এ ধরনের প্রশ্নের সমাধান অবশ্যই স্বচ্ছ, আইনসম্মত এবং পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো, প্রতিটি মানুষ তার জন্মগত মর্যাদার কারণে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে।

সংগঠনটি বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে অবস্থানরত সব মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে নজরদারি জোরদার

পুশইনে সীমান্তে মানবিক বিপর্যয় | The Daily Adin

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ২৬টি জেলার সীমান্ত এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাও কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন।

এদিকে, সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়া, সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা এবং সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির মতে, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিকতা, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি সম্মান দেখানোই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধানের পথ হতে পারে।