শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আল মুহতাসিম সাইফ হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন শান্ত হাসান, মো. স্বাধীন ও সজীব বর্মণ। তারা সবাই শেরপুর পৌর এলাকার দিঘারপাড় এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রধান আসামিরা এখনও পলাতক
মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাঈম মিয়া, পাপ্পু, স্বপন ও আরমানের নাম উঠে এলেও এখনও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সড়ক অবরোধে বিক্ষোভ

প্রধান আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে “সচেতন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ” এবং “সোনার বাংলা যুব সমাজ”-এর ব্যানারে স্থানীয়রা শুক্রবার বিকেলে ডুমদুমা-কালীগঞ্জ এলাকায় শেরপুর-শ্রীবরদী সড়ক অবরোধ করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচির ফলে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
তুচ্ছ বিরোধ থেকে প্রাণহানি
নিহত সাইফ ছিলেন শেরপুর পৌর এলাকার ডুমদুমা-কালীগঞ্জ এলাকার আব্দুল মালেকের একমাত্র ছেলে। তিনি শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গত ২৯ মে তাতলপুর এলাকার একটি সড়কে তুচ্ছ বিরোধের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৮ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থী সাইফের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি বিচার দাবিতে জনমত আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















