২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতেই চীনে নতুন করে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় দল দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে না খেললেও দর্শকদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং বিশ্বকাপকে ঘিরে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, হোটেল, খুচরা বাজার ও অনলাইন বাণিজ্যে নতুন গতি এসেছে।
রাত জেগে খেলা দেখার প্রস্তুতি
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় চীনে বেশিরভাগ খেলা গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হচ্ছে। তবুও ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণ ধরে রাখতে অনেক রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে তাদের কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। বড় পর্দা, উন্নত শব্দব্যবস্থা এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করে দর্শকদের টানার চেষ্টা চলছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, জনপ্রিয় দলগুলোর ম্যাচের সময় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বিক্রি কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে খাবার ও পানীয়ের মজুতও বাড়িয়েছে।
দর্শক বাড়ার আশায় পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শহরে খেলা দেখার জন্য বিশেষ ভেন্যু তৈরি করা হয়েছে। সাংহাইয়ের একটি অবকাশকেন্দ্রে পার্কিং এলাকা রূপান্তর করা হয়েছে বড় দর্শক সমাবেশের স্থানে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এই সময়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
একই সঙ্গে অডিও-ভিজ্যুয়াল সুবিধাসম্পন্ন হোটেল কক্ষের চাহিদাও বেড়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী সপ্তাহেই এ ধরনের কক্ষ বুকিংয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা এই টুর্নামেন্ট ঘিরে মানুষের আগ্রহেরই প্রতিফলন।

শুধু দর্শক নয়, অর্থনীতিতেও প্রভাব
বিশ্বকাপকে ঘিরে চীনের সম্পৃক্ততা শুধু খেলা দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রচার অধিকার, ই-কমার্স, স্মারকপণ্য বিক্রি এবং ক্রীড়া অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও এর প্রভাব পড়ছে।
বেইজিংয়ের বিভিন্ন বিপণিবিতানে বিশ্বকাপভিত্তিক পণ্যের দোকান দেখা যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও পর্তুগালের মতো জনপ্রিয় দলের জার্সি এবং সমর্থক সামগ্রীর চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পণ্য দ্রুত বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পুতুল, চাবির রিং ও অন্যান্য স্মারক সামগ্রী পরিবার ও নারী ক্রেতাদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বকাপ দেশের ভোক্তা ব্যয় আরও বাড়াবে। ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা, বিনোদন এবং খুচরা বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি এখন একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের প্রস্তুত করেছে নতুন আয়ের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে।
বিশ্বকাপ ঘিরে চীনে ফুটবল উন্মাদনা বেড়েছে। রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খুচরা বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে নতুন গতি আনছে ক্রীড়া অর্থনীতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















