১২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কতটা টি-২০ বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে মরিয়া ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে? নিউইয়র্ক নিকসের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়, বাজারে চ্যাম্পিয়ন স্মারকের ঝড় নরম্যান্ডির ছোট্ট গ্রামে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের পক্ষে সরব বাসিন্দারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আবার শক্তিশালী, নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে মস্তিষ্ক ছাড়াই বুদ্ধিমত্তা! রহস্য উন্মোচন করল হলুদ স্লাইম ছত্রাক স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন রাঙাল ম্যাকগিন, হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ট্রাম্পের নাম সরাল কেনেডি সেন্টার, আদালতের নির্দেশ কার্যকর সেইয়া সুজুকির হাঁটুতে চোটের শঙ্কা, ম্যাচের মাঝপথেই মাঠ ছাড়লেন কাবস তারকা

সন্তানের স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে ‘ড্যানি গো!’—শিশুদের নায়ক ড্যানিয়েল কোলম্যানের আনন্দ-শোকের অবিশ্বাস্য গল্প

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশুর কাছে তিনি পরিচিত এক প্রাণবন্ত মুখ। নাচ, গান আর অফুরন্ত উদ্যমে শিশুদের আনন্দে মাতিয়ে রাখা ‘ড্যানি গো!’ এখন শিশুদের বিনোদনের অন্যতম বড় নাম। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বাবার গভীর বেদনা, সংগ্রাম আর হারানোর গল্প।

ড্যানিয়েল কোলম্যান, যিনি ‘ড্যানি গো!’ চরিত্রে অভিনয় করেন, সম্প্রতি হারিয়েছেন তাঁর বড় ছেলে আইজ্যাককে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ক্যানসারের কাছে হার মানে আইজ্যাক। অথচ একই সময়ে ড্যানিয়েলের তৈরি অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

শিশুদের প্রিয় এক বিস্ময়

রঙিন পোশাক, আকর্ষণীয় গান আর শরীরচর্চামূলক নাচের মাধ্যমে ‘ড্যানি গো!’ খুব অল্প সময়েই শিশুদের মন জয় করে নেয়। স্কুল ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে এই অনুষ্ঠান বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ এটি শিশুদের সক্রিয়ভাবে নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করে।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে কোটি কোটি দর্শক যুক্ত হয়েছে। সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনা, খেলনা, শিশুতোষ বই এবং নতুন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘ড্যানি গো!’ একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু-বিনোদন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

অসুস্থ সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই

আইজ্যাক জন্ম থেকেই একটি বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিল। এই রোগ শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

শৈশব থেকেই আইজ্যাককে একের পর এক অস্ত্রোপচার, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন, কিডনি প্রতিস্থাপনসহ নানা চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবুও পরিবারটি কখনও আশা হারায়নি। তিন বছর বয়সে আইজ্যাক প্রথম হাঁটতে শুরু করলে সেটি ছিল পরিবারের জন্য এক অসাধারণ আনন্দের মুহূর্ত।

বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেওয়া স্বপ্ন

‘ড্যানি গো!’ আসলে কয়েকজন শৈশবের বন্ধুর যৌথ উদ্যোগ। সংগীতপ্রেমী ড্যানিয়েল কোলম্যান ও তাঁর বন্ধুদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কই পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি করে।

শুরুতে অনুষ্ঠানটির ধারণা ছিল শিশুদের শেখানো, বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানো এবং তাদের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা। তবে সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পারেন, গান ও নাচভিত্তিক বিষয়বস্তু শিশুদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। এরপরই শুরু হয় নতুন যাত্রা।

শিক্ষকদের হাত ধরে জনপ্রিয়তা

২০২২ সালে একটি নাচের ভিডিও অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ‘ড্যানি গো!’-এর দর্শকসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং বিরতির সময়ে শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করতে অনুষ্ঠানটির ভিডিও ব্যবহার করতে শুরু করেন। ফলে স্কুলভিত্তিক দর্শকই হয়ে ওঠে এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান শক্তি।

সাফল্যের মাঝেও নেমে আসে অন্ধকার

২০২৫ সালের শেষ দিকে চিকিৎসকেরা আইজ্যাকের মুখে এবং মাথা-গলায় ছড়িয়ে পড়া আক্রমণাত্মক ক্যানসার শনাক্ত করেন। চিকিৎসার নানা চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

ছেলের চিকিৎসা চলার মধ্যেও ড্যানিয়েল শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান করে গেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। পরিবারের সব মনোযোগ তখন আইজ্যাকের আরাম ও যত্ন নিশ্চিত করার দিকে চলে যায়।

ভালোবাসার উত্তরাধিকার

আইজ্যাকের মৃত্যুর পর ড্যানিয়েল কিছু সময়ের জন্য কাজ থেকে দূরে সরে গেছেন। নিজের বাড়ির কাছের বনভূমিতে ছেলের স্মৃতিতে একটি স্মারক তৈরি করছেন তিনি।

এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে অনুষ্ঠান তাঁর ছেলেকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং যার পেছনে আইজ্যাকের উপস্থিতি এত গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল, সেটি কি তিনি চালিয়ে যেতে পারবেন?

তবু ড্যানিয়েল বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা, সংগীত এবং সৃজনশীলতার পথই তাঁকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাঁর কাছে ‘ড্যানি গো!’ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবার, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতার এক জীবন্ত স্মারক।

 

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কতটা

সন্তানের স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে ‘ড্যানি গো!’—শিশুদের নায়ক ড্যানিয়েল কোলম্যানের আনন্দ-শোকের অবিশ্বাস্য গল্প

১১:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশুর কাছে তিনি পরিচিত এক প্রাণবন্ত মুখ। নাচ, গান আর অফুরন্ত উদ্যমে শিশুদের আনন্দে মাতিয়ে রাখা ‘ড্যানি গো!’ এখন শিশুদের বিনোদনের অন্যতম বড় নাম। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বাবার গভীর বেদনা, সংগ্রাম আর হারানোর গল্প।

ড্যানিয়েল কোলম্যান, যিনি ‘ড্যানি গো!’ চরিত্রে অভিনয় করেন, সম্প্রতি হারিয়েছেন তাঁর বড় ছেলে আইজ্যাককে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ক্যানসারের কাছে হার মানে আইজ্যাক। অথচ একই সময়ে ড্যানিয়েলের তৈরি অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

শিশুদের প্রিয় এক বিস্ময়

রঙিন পোশাক, আকর্ষণীয় গান আর শরীরচর্চামূলক নাচের মাধ্যমে ‘ড্যানি গো!’ খুব অল্প সময়েই শিশুদের মন জয় করে নেয়। স্কুল ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে এই অনুষ্ঠান বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ এটি শিশুদের সক্রিয়ভাবে নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করে।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে কোটি কোটি দর্শক যুক্ত হয়েছে। সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনা, খেলনা, শিশুতোষ বই এবং নতুন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘ড্যানি গো!’ একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু-বিনোদন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

অসুস্থ সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই

আইজ্যাক জন্ম থেকেই একটি বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিল। এই রোগ শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

শৈশব থেকেই আইজ্যাককে একের পর এক অস্ত্রোপচার, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন, কিডনি প্রতিস্থাপনসহ নানা চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবুও পরিবারটি কখনও আশা হারায়নি। তিন বছর বয়সে আইজ্যাক প্রথম হাঁটতে শুরু করলে সেটি ছিল পরিবারের জন্য এক অসাধারণ আনন্দের মুহূর্ত।

বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেওয়া স্বপ্ন

‘ড্যানি গো!’ আসলে কয়েকজন শৈশবের বন্ধুর যৌথ উদ্যোগ। সংগীতপ্রেমী ড্যানিয়েল কোলম্যান ও তাঁর বন্ধুদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কই পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি করে।

শুরুতে অনুষ্ঠানটির ধারণা ছিল শিশুদের শেখানো, বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানো এবং তাদের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা। তবে সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পারেন, গান ও নাচভিত্তিক বিষয়বস্তু শিশুদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। এরপরই শুরু হয় নতুন যাত্রা।

শিক্ষকদের হাত ধরে জনপ্রিয়তা

২০২২ সালে একটি নাচের ভিডিও অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ‘ড্যানি গো!’-এর দর্শকসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং বিরতির সময়ে শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করতে অনুষ্ঠানটির ভিডিও ব্যবহার করতে শুরু করেন। ফলে স্কুলভিত্তিক দর্শকই হয়ে ওঠে এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান শক্তি।

সাফল্যের মাঝেও নেমে আসে অন্ধকার

২০২৫ সালের শেষ দিকে চিকিৎসকেরা আইজ্যাকের মুখে এবং মাথা-গলায় ছড়িয়ে পড়া আক্রমণাত্মক ক্যানসার শনাক্ত করেন। চিকিৎসার নানা চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

ছেলের চিকিৎসা চলার মধ্যেও ড্যানিয়েল শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান করে গেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। পরিবারের সব মনোযোগ তখন আইজ্যাকের আরাম ও যত্ন নিশ্চিত করার দিকে চলে যায়।

ভালোবাসার উত্তরাধিকার

আইজ্যাকের মৃত্যুর পর ড্যানিয়েল কিছু সময়ের জন্য কাজ থেকে দূরে সরে গেছেন। নিজের বাড়ির কাছের বনভূমিতে ছেলের স্মৃতিতে একটি স্মারক তৈরি করছেন তিনি।

এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে অনুষ্ঠান তাঁর ছেলেকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং যার পেছনে আইজ্যাকের উপস্থিতি এত গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল, সেটি কি তিনি চালিয়ে যেতে পারবেন?

তবু ড্যানিয়েল বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা, সংগীত এবং সৃজনশীলতার পথই তাঁকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাঁর কাছে ‘ড্যানি গো!’ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবার, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতার এক জীবন্ত স্মারক।