০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি? বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে জ্বালানি, ডলার, বকেয়া ও আস্থার সংকট উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন

নিউ গ্লেন বিস্ফোরণে চাপে চন্দ্র মিশন, পিছিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পরিকল্পনা

চাঁদে মানুষ পাঠানোর নতুন স্বপ্নকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচি যখন গতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে একটি রকেট বিস্ফোরণ। পরীক্ষামূলক ইঞ্জিন চালনার সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে নিউ গ্লেন রকেট, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল।

এই ঘটনার ফলে শুধু একটি বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই হয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদে ফেরার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস রকেট

মে মাসের শেষ দিকে রাতের একটি পরীক্ষায় নিউ গ্লেন রকেটের সাতটি প্রথম ধাপের ইঞ্জিন চালু করা হচ্ছিল। পরীক্ষার মাঝেই রকেটটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার হয়।

বিস্ফোরণের পর আগুন, ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩২২ ফুট লম্বা রকেটটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি অংশও।

Nasa targets March 6 date to send humans back around the Moon

চন্দ্র অভিযানে নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদে মানুষ পাঠানোর কর্মসূচি বর্তমানে অনেকটাই বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিকল্পনায় চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারী অবতরণ, মালামাল পরিবহন এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর দায়িত্বের বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে।

কিন্তু একদিকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, অন্যদিকে নিউ গ্লেন বিস্ফোরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিলম্বের শঙ্কা বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করা, রকেট পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত উৎক্ষেপণ কেন্দ্র মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এর ফলে পরিকল্পিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চন্দ্রপৃষ্ঠে সরঞ্জাম পাঠানো, গবেষণা যান অবতরণ করানো এবং ভবিষ্যৎ নভোচারীদের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলার যেসব কর্মসূচি ছিল, সেগুলোর সময়সূচিও এখন প্রশ্নের মুখে।

Big read] The US-China moon race is more dangerous than ever | ThinkChina

চীন-যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ প্রতিযোগিতা

চাঁদকে ঘিরে নতুন শতকের মহাকাশ প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। চীন আগামী দশকের শুরুতেই চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসূচিতে বিলম্ব হলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে বেইজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত এই ধাক্কা সামাল দিতে হবে। অন্যথায় চাঁদে আধিপত্যের নতুন লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে পড়তে পারে।

চন্দ্র অভিযানের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত নয়, তবে নিউ গ্লেন বিস্ফোরণ যে সময়সূচি ও পরিকল্পনায় বড় চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে মহাকাশ অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট

নিউ গ্লেন বিস্ফোরণে চাপে চন্দ্র মিশন, পিছিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পরিকল্পনা

১১:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চাঁদে মানুষ পাঠানোর নতুন স্বপ্নকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচি যখন গতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে একটি রকেট বিস্ফোরণ। পরীক্ষামূলক ইঞ্জিন চালনার সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে নিউ গ্লেন রকেট, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল।

এই ঘটনার ফলে শুধু একটি বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই হয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদে ফেরার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস রকেট

মে মাসের শেষ দিকে রাতের একটি পরীক্ষায় নিউ গ্লেন রকেটের সাতটি প্রথম ধাপের ইঞ্জিন চালু করা হচ্ছিল। পরীক্ষার মাঝেই রকেটটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার হয়।

বিস্ফোরণের পর আগুন, ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩২২ ফুট লম্বা রকেটটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি অংশও।

Nasa targets March 6 date to send humans back around the Moon

চন্দ্র অভিযানে নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদে মানুষ পাঠানোর কর্মসূচি বর্তমানে অনেকটাই বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিকল্পনায় চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারী অবতরণ, মালামাল পরিবহন এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর দায়িত্বের বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে।

কিন্তু একদিকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, অন্যদিকে নিউ গ্লেন বিস্ফোরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিলম্বের শঙ্কা বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করা, রকেট পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত উৎক্ষেপণ কেন্দ্র মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এর ফলে পরিকল্পিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চন্দ্রপৃষ্ঠে সরঞ্জাম পাঠানো, গবেষণা যান অবতরণ করানো এবং ভবিষ্যৎ নভোচারীদের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলার যেসব কর্মসূচি ছিল, সেগুলোর সময়সূচিও এখন প্রশ্নের মুখে।

Big read] The US-China moon race is more dangerous than ever | ThinkChina

চীন-যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ প্রতিযোগিতা

চাঁদকে ঘিরে নতুন শতকের মহাকাশ প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। চীন আগামী দশকের শুরুতেই চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসূচিতে বিলম্ব হলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে বেইজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত এই ধাক্কা সামাল দিতে হবে। অন্যথায় চাঁদে আধিপত্যের নতুন লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে পড়তে পারে।

চন্দ্র অভিযানের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত নয়, তবে নিউ গ্লেন বিস্ফোরণ যে সময়সূচি ও পরিকল্পনায় বড় চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে মহাকাশ অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।