০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি? বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে জ্বালানি, ডলার, বকেয়া ও আস্থার সংকট উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন

চীনের বিজ্ঞান গবেষণায় ঝড় তুললেন এক প্রাক্তন গবেষক

চীনের বিজ্ঞান অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে এক অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিকে ঘিরে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কোনো খ্যাতিমান বিজ্ঞানী নন, বরং পিএইচডি সম্পন্ন না করেই গবেষণাজগৎ ছেড়ে দেওয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা। তবে তাঁর প্রকাশ করা একের পর এক তথ্য দেশের গবেষণা ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনিয়ম ও জালিয়াতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গবেষণা জালিয়াতি নিয়ে প্রশ্ন

কয়েক মাস আগে তিনি একটি ভিডিওতে দেখান, ক্যানসার গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বহুল আলোচিত গবেষণাপত্রে ব্যবহৃত কিছু তথ্য সন্দেহজনক। তাঁর দাবি ছিল, গবেষণার ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গবেষণা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরপর তিনি আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণাপত্রে একই ধরনের অসঙ্গতি, সন্দেহজনক ছবি এবং তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। এসব প্রকাশনার অনেকগুলোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে ছাপা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা সরকারি অর্থায়নও পেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদন্ত

ঘটনাগুলোর পর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কয়েকজন উচ্চপদস্থ একাডেমিক কর্মকর্তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তাঁদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানেই অন্য দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

এই পদক্ষেপ গবেষণা জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগগুলো সীমিত পরিসরে আলোচনা হচ্ছিল, সেগুলো এবার সাধারণ মানুষের নজরেও এসেছে।

A dropout-turned-influencer shakes up Chinese science

দ্রুত অগ্রগতির আড়ালে সমস্যা

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, চীনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নিঃসন্দেহে অসাধারণ। গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যায় দেশটি বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর একটি। কিন্তু এই দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কিছু কাঠামোগত সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে গবেষক মূল্যায়ন, পদোন্নতি এবং অর্থায়ন নির্ভর করে কতগুলো গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার ওপর। ফলে গুণগত মানের চেয়ে সংখ্যার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করলে আর্থিক সুবিধা ও অন্যান্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা চাপ আরও বাড়ায়।

সংস্কারের সুযোগ নাকি সীমাবদ্ধতা

চীনের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ গবেষণার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। সেই কারণে অনিয়ম প্রকাশের এই ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। গবেষণার ফলাফল যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার দাবিও জোরালো হয়েছে।

তবে সমালোচনার ক্ষেত্র কতটা উন্মুক্ত থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই নির্মাতার কিছু নতুন ভিডিওর প্রচার সীমিত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গবেষণা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজন স্বীকার করা হলেও প্রকাশ্য সমালোচনার পরিসর কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন

এই ঘটনা শুধু কয়েকটি গবেষণাপত্রের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। এটি দেখিয়েছে যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মান নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন টেকসই করতে হলে শুধু গবেষণার সংখ্যা নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্ব পেতে হবে।

চীনের গবেষণা অঙ্গনে শুরু হওয়া এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট

চীনের বিজ্ঞান গবেষণায় ঝড় তুললেন এক প্রাক্তন গবেষক

০৫:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চীনের বিজ্ঞান অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে এক অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিকে ঘিরে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কোনো খ্যাতিমান বিজ্ঞানী নন, বরং পিএইচডি সম্পন্ন না করেই গবেষণাজগৎ ছেড়ে দেওয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা। তবে তাঁর প্রকাশ করা একের পর এক তথ্য দেশের গবেষণা ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনিয়ম ও জালিয়াতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গবেষণা জালিয়াতি নিয়ে প্রশ্ন

কয়েক মাস আগে তিনি একটি ভিডিওতে দেখান, ক্যানসার গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বহুল আলোচিত গবেষণাপত্রে ব্যবহৃত কিছু তথ্য সন্দেহজনক। তাঁর দাবি ছিল, গবেষণার ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গবেষণা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরপর তিনি আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণাপত্রে একই ধরনের অসঙ্গতি, সন্দেহজনক ছবি এবং তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। এসব প্রকাশনার অনেকগুলোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে ছাপা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা সরকারি অর্থায়নও পেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদন্ত

ঘটনাগুলোর পর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কয়েকজন উচ্চপদস্থ একাডেমিক কর্মকর্তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তাঁদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানেই অন্য দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

এই পদক্ষেপ গবেষণা জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগগুলো সীমিত পরিসরে আলোচনা হচ্ছিল, সেগুলো এবার সাধারণ মানুষের নজরেও এসেছে।

A dropout-turned-influencer shakes up Chinese science

দ্রুত অগ্রগতির আড়ালে সমস্যা

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, চীনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নিঃসন্দেহে অসাধারণ। গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যায় দেশটি বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর একটি। কিন্তু এই দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কিছু কাঠামোগত সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে গবেষক মূল্যায়ন, পদোন্নতি এবং অর্থায়ন নির্ভর করে কতগুলো গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার ওপর। ফলে গুণগত মানের চেয়ে সংখ্যার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করলে আর্থিক সুবিধা ও অন্যান্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা চাপ আরও বাড়ায়।

সংস্কারের সুযোগ নাকি সীমাবদ্ধতা

চীনের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ গবেষণার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। সেই কারণে অনিয়ম প্রকাশের এই ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। গবেষণার ফলাফল যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার দাবিও জোরালো হয়েছে।

তবে সমালোচনার ক্ষেত্র কতটা উন্মুক্ত থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই নির্মাতার কিছু নতুন ভিডিওর প্রচার সীমিত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গবেষণা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজন স্বীকার করা হলেও প্রকাশ্য সমালোচনার পরিসর কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন

এই ঘটনা শুধু কয়েকটি গবেষণাপত্রের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। এটি দেখিয়েছে যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মান নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন টেকসই করতে হলে শুধু গবেষণার সংখ্যা নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্ব পেতে হবে।

চীনের গবেষণা অঙ্গনে শুরু হওয়া এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।