যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে আশাবাদ তৈরি করেছে।
রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হয়েছে যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল “টোলমুক্ত” হবে। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদনের কথাও ঘোষণা করেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে জটিল ও অনিশ্চিত আলোচনা চলছিল। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নানা সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছে।
শান্তি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সমঝোতার আওতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে রোববার পর্যন্ত চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
ট্রাম্প তার বার্তায় বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হবে।
ইরানের ভূমিকা
যদিও যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে ইরানেরও ভূমিকা রয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সমঝোতার আওতায় দেশটির প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে শুরু করবে।
বিশ্ব তেলের বাজারে প্রভাব
চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। গত সপ্তাহের পতনের ধারাও এতে আরও বিস্তৃত হয়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮১ ডলারে লেনদেন হতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর এখন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট।
শেয়ারবাজার ও জ্বালানি খাতে স্বস্তি
তেলের দাম কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচারস প্রায় ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা জ্বালানি মূল্যও সামান্য কমেছে। গ্যাসোলিনের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪.০৭ ডলারে নেমেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই মূল্য এখনও প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি রয়েছে। একইভাবে ডিজেলের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৫.২২ ডলারে নেমেছে, যদিও তা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তন সাধারণত কয়েক দিন পরে খুচরা জ্বালানি বাজারে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি বাজারে আরও স্বস্তি দেখা যেতে পারে।
#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #হরমুজ_প্রণালি #তেলের_দাম #আন্তর্জাতিক_বাজার #জ্বালানি #শেয়ারবাজার #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #বিশ্বঅর্থনীতি #তেলবাজার




















