অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিল কুড়িগ্রামের এক স্কুলছাত্রী। দীর্ঘ উৎকণ্ঠা, সীমান্তে কয়েক ঘণ্টার টানটান পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আলোচনার পর শনিবার রাতে সে আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকের পর শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিমানে বাড়ি ছেড়ে সীমান্ত পেরোনো
ফিরে আসা শিশুটির নাম জয়নব। সে কাশীপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশীপুর ঘাঘোয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন ও নাজমা বেগমের মেয়ে। স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় জয়নব। একপর্যায়ে সে ভুল করে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কোচবিহার জেলার একটি এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে তাকে আটক করা হয়।
সীমান্তে উত্তেজনা
স্থানীয়দের দাবি, দুপুরের দিকে শিশুটিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় আপত্তি জানানো হয়। এতে সীমান্ত এলাকায় কয়েক ঘণ্টা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে শিশুটিকে আবার ভারতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে দুপুর থেকে নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে থাকা জয়নবের মা জানতে পারেন, সীমান্তের ওপারে এক শিশুকে আটক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন যে সেটি তারই মেয়ে। এরপর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৈঠকের পর সমাধান

রাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জয়নবের পরিচয় ও ঘটনাটির প্রকৃতি যাচাই করা হয়। বৈঠকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে শিশুটি ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করেছিল।
এরপর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
স্বস্তি ফিরল পরিবারে
দীর্ঘ সময়ের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি নেমে এসেছে জয়নবের পরিবারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শিশুটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক ঘণ্টার অনিশ্চয়তার পর মেয়েকে ফিরে পাওয়ায় তারা স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। সীমান্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সমাধান হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















