অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। তবে শেষ ম্যাচে দারুণ লড়াই করেও জয় ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। মিরপুরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে কুপার কনলির দুর্দান্ত শতকের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া এক উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে।
তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।
কনলির একার লড়াই
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা ছিলেন ওপেনার কুপার কনলি। ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কা।

অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও কনলি একাই দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। বিশেষ করে ম্যাচের শেষদিকে তাসকিন আহমেদের এক ওভারে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে দেন তিনি।
শরিফুলের আগুনঝরা বোলিং
ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসার দুর্দান্ত স্পেলে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে চাপ তৈরি করেন।
শেষ দিকে টানা উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন শরিফুল। একসময় সপ্তম উইকেট পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল তার সামনে। তবে সহজ একটি ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগেনি।
এরপর কনলিও আউট হয়ে গেলে ম্যাচ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল মাত্র ৩ রান। তখন অ্যাডাম জাম্পা বাউন্ডারি মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ব্যাট হাতে উজ্জ্বল হৃদয়, লিটন ও মোসাদ্দেক
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন তাওহীদ হৃদয়।

লিটন দাস অপরাজিত ৫৮ রান করেন। মিরপুরে দীর্ঘ সময় পর এটি ছিল তার প্রথম অর্ধশতক। অন্যদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও অপরাজিত ৫৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
শুরুতে সৌম্য সরকার, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসানের দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। পরে হৃদয় ও লিটনের ৯২ রানের জুটি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়।
লিটন পেশিতে টান লাগায় এক পর্যায়ে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে ইনিংসের শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। হৃদয় ও মোসাদ্দেকের ৯৩ রানের জুটিও দলের সংগ্রহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
সিরিজ জয়ে নতুন মাইলফলক
শেষ ম্যাচে হারলেও এই সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। কারণ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে হারিয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং ভবিষ্যতের জন্যও বড় আশার বার্তা হয়ে থাকল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















