যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা কুকুরের হামলায় এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, যে দুটি কুকুর ওই নারীকে প্রাণঘাতীভাবে আক্রমণ করেছিল, তারা এর আগেও প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং তাদের আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল।
গত মে মাসে ৫০ বছর বয়সী জোডি কোয়ান নামে এক নারী নিজের ছোট কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে দুটি কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। ঘটনার পর কুকুরগুলোর মালিক ২৯ বছর বয়সী লিন্ডা কাটলারের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগেও ছিল হামলার অভিযোগ
তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত্যুর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে একই দুটি কুকুর আরেক প্রতিবেশী জন আর্গিলার ওপর হামলা চালিয়েছিল। তিনি সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন কুকুর দুটি তাকে তাড়া করে এবং হাতে কামড় দেয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কুকুরগুলো প্রায়ই বাড়ির বেড়া ডিঙিয়ে বাইরে চলে আসত এবং পথচারীদের তাড়া করত। অনেকেই তাদের আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
মৃত্যুর রাতের বিভীষিকা
ঘটনার রাতে জোডি কোয়ানের দীর্ঘদিনের সঙ্গী তার চিৎকার শুনে বাইরে ছুটে যান। তিনি কুকুরগুলোকে সরানোর চেষ্টা করেন এবং জরুরি সহায়তার জন্য ফোন করেন। কিন্তু ততক্ষণে কোয়ান গুরুতর আহত হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তার ঘাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়েছিল এবং শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য কামড়ের চিহ্ন।
কুকুরগুলোর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তে জানা গেছে, কুকুর দুটি একই লিটারের ছিল এবং তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক নির্ভরশীলতা ও আক্রমণাত্মক প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। মালিক নিজেও স্বীকার করেছেন যে কয়েক মাস ধরে কুকুরগুলোর আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছিল।
এছাড়া কুকুরগুলোর মা ও বাবার বিরুদ্ধেও অতীতে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ ছিল। পরিবারের অন্যান্য কুকুর নিয়েও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল।
নতুন রহস্য
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জোডি কোয়ানের বসবাসস্থলের কাছে তিনটি কুকুর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।
কুকুর নাকি মালিক—দায় কার?
ঘটনার পর আবারও বিপজ্জনক কুকুরের জাত নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। তবে প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সমস্যার মূল কারণ কুকুরের জাত নয়; বরং মালিকের দায়িত্বহীনতা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং নিরাপদভাবে প্রাণী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।
তাদের মতে, আক্রমণাত্মক আচরণের ইতিহাস থাকা কুকুরের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মালিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা জননিরাপত্তার জন্য জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















