তারল্য সংকট কাটিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকটির সাম্প্রতিক নগদ অর্থের চাপ মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজের প্রথম কিস্তি। ব্যাংকটির চাহিদা অনুযায়ী আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
কেন তৈরি হলো সংকট
গত মাসে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে বিতর্কের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এ নিয়োগের বিরোধিতা করে একদল গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। এর প্রভাবে অনেক আমানতকারী একযোগে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে শুরু করেন।
গ্রাহকদের এই ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা
সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২,৫০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অর্থ ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখা এবং গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
আমানতকারীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা
সম্প্রতি বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ব্যাংকটির সংকট দ্রুত সমাধান হবে এবং আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। প্রয়োজন হলে জরুরি তারল্য সহায়তাও দেওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির ওপর তৈরি হওয়া চাপও কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















