০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে চুরির সন্দেহে পিটিয়ে যুবক হত্যা, আটক ৩ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৬৭০ ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকট, পর্যটন মৌসুমে বড় ধাক্কা ভারত ১৪০ কোটি মানুষের দেশ হওয়ার পরও কেন ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি? জৈবপ্রযুক্তির নতুন বিশ্বযুদ্ধে ভারতের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত , অনিশ্চয়তায় সমঝোতা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের চরে গৃহহীন ৩০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন ঘিরে সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই, বললেন ডিএমপি কমিশনার শ্রমিক শ্রেণির ক্ষোভ, ভাঙা আস্থা এবং ব্রিটিশ রাজনীতির নতুন সন্ধিক্ষণ

ট্রাম্পের নাম সরাতে আদালতের নির্দেশ বহাল, কেনেডি সেন্টার নিয়ে নতুন ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশ বহাল রেখেছেন, ফলে কেন্দ্রটির নাম থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্মৃতিস্তম্ভ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কংগ্রেসের

File:Christopher R. Cooper.jpg - Wikimedia Commons

ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার তার রায়ে স্পষ্ট করেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা শুধুমাত্র কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। তার মতে, নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন একটি জাতীয় স্মৃতিচিহ্নের নাম পরিবর্তন করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে গত মে মাসে বিচারক নির্দেশ দেন, কেন্দ্রটির ভবন, ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট সব উপকরণ থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল শুক্রবার রাত।

আপিলেও স্বস্তি পেল না প্রশাসন

ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের নির্দেশ স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে আপিল করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নাম ও সাইনবোর্ড পরিবর্তন করলে পরে আবার তা ফিরিয়ে আনতে হতে পারে, যা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে।

তবে আপিল আদালতও প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে নিম্ন আদালতের নির্দেশ কার্যকর রাখতে আর কোনো বাধা থাকল না।

মামলাকারীদের প্রতিক্রিয়া

মামলাটি দায়ের করেছিলেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জয়েস বিটি। তার আইনজীবীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনের শাসনের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Trump administration appeals judge's ruling over removing president's name  from Kennedy Center | CNN Politics

তাদের বক্তব্য, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের রয়েছে। আদালতের রায় সেই নীতিকেই পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

কেনেডি সেন্টারের ইতিহাস

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। ১৯৬৩ সালে নিহত হওয়া এই প্রেসিডেন্টের স্মরণে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পারফর্মিং আর্টস কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

গত বছর কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই আদালতে চ্যালেঞ্জ আসে।

যুক্তরাষ্ট্র 'হরমুজ প্রণালী সচল করছে' : ট্রাম্প | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা

এদিকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সরকারি স্থাপনার চেহারা বদলের বৃহত্তর পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার কাজ, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ।

তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট হয়েছে, জাতীয় ঐতিহ্য ও স্মৃতিচিহ্ন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে আইনগত সীমারেখা অতিক্রম করা সহজ হবে না।

ট্রাম্পের নাম অপসারণে আদালতের নির্দেশ বহাল থাকায় কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে বিতর্ক এখন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান

ট্রাম্পের নাম সরাতে আদালতের নির্দেশ বহাল, কেনেডি সেন্টার নিয়ে নতুন ধাক্কা

১১:৫১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশ বহাল রেখেছেন, ফলে কেন্দ্রটির নাম থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্মৃতিস্তম্ভ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কংগ্রেসের

File:Christopher R. Cooper.jpg - Wikimedia Commons

ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার তার রায়ে স্পষ্ট করেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা শুধুমাত্র কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। তার মতে, নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন একটি জাতীয় স্মৃতিচিহ্নের নাম পরিবর্তন করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে গত মে মাসে বিচারক নির্দেশ দেন, কেন্দ্রটির ভবন, ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট সব উপকরণ থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল শুক্রবার রাত।

আপিলেও স্বস্তি পেল না প্রশাসন

ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের নির্দেশ স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে আপিল করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নাম ও সাইনবোর্ড পরিবর্তন করলে পরে আবার তা ফিরিয়ে আনতে হতে পারে, যা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে।

তবে আপিল আদালতও প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে নিম্ন আদালতের নির্দেশ কার্যকর রাখতে আর কোনো বাধা থাকল না।

মামলাকারীদের প্রতিক্রিয়া

মামলাটি দায়ের করেছিলেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জয়েস বিটি। তার আইনজীবীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনের শাসনের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Trump administration appeals judge's ruling over removing president's name  from Kennedy Center | CNN Politics

তাদের বক্তব্য, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের রয়েছে। আদালতের রায় সেই নীতিকেই পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

কেনেডি সেন্টারের ইতিহাস

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। ১৯৬৩ সালে নিহত হওয়া এই প্রেসিডেন্টের স্মরণে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পারফর্মিং আর্টস কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

গত বছর কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই আদালতে চ্যালেঞ্জ আসে।

যুক্তরাষ্ট্র 'হরমুজ প্রণালী সচল করছে' : ট্রাম্প | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ওয়াশিংটনে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা

এদিকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সরকারি স্থাপনার চেহারা বদলের বৃহত্তর পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার কাজ, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ।

তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট হয়েছে, জাতীয় ঐতিহ্য ও স্মৃতিচিহ্ন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে আইনগত সীমারেখা অতিক্রম করা সহজ হবে না।

ট্রাম্পের নাম অপসারণে আদালতের নির্দেশ বহাল থাকায় কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে বিতর্ক এখন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল।