মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় তেলের প্রবাহ এখনও অনেক কম, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
যুদ্ধবিরতির আশা, কিন্তু স্বস্তি নেই
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আলোচনা জোরদার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের জন্য সেবামূল্য আরোপ করা হতে পারে।
তেলের প্রবাহ এখনও স্বাভাবিকের অনেক নিচে

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচল করছে। একইভাবে তেল পরিবহনের পরিমাণও আগের তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধের আগে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যেত, কিন্তু এখন সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত পরিমাণ তেল পরিবহনের জন্য যে মাত্রার সামরিক ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে।
ইরানের কৌশলগত সুবিধা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যতদিন জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানির দাম উঁচু রাখতে পারবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের চাপ বজায় থাকবে। বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমতে থাকায় এই প্রভাব আরও বাড়ছে।

অনেক জাহাজ মালিক নিরাপদে পারস্য উপসাগর ছাড়ার জন্য ইরানের অনুমতি নিয়ে তাদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এখনও দৃশ্যমান রয়েছে।
অবরোধের প্রভাব বিশ্ববাজারে
ইরানি তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ ব্যবস্থা চালু করেছে, তা কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও এর প্রভাব পুরো জ্বালানি বাজারে পড়ছে। ইরানের রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেও কম তেল বের হতে পারছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে একটি ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় প্রাণহানির খবরও এসেছে। এতে পরিস্থিতির ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সামনে কী?
যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আস্থা সংকট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর না হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিকরা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবেন না। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















