যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কলেজ ডিগ্রিবিহীন শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটাররা। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই সমর্থনভিত্তিতে বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণে এই ভোটারদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
অর্থনীতি নিয়ে আস্থার সংকট
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় এই গোষ্ঠী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তাকে বড় ব্যবধানে সমর্থন দিলেও এখন অনেক জরিপে তার প্রতি অসন্তোষই বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু জনপ্রিয়তার সাময়িক পতন নয়; বরং ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। গত এক দশকে তার রাজনৈতিক সাফল্যের বড় অংশই এই ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।

দাম বাড়ার চাপই প্রধান কারণ
জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পূরণ হয়নি।
বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। অনেক শ্রমজীবী পরিবার বলছে, আগের তুলনায় দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। মজুরি বৃদ্ধি সেই হারে না হওয়ায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুও প্রভাব ফেলছে
অর্থনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিও ভোটারদের মনোভাবে প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা জ্বালানির বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলে অনেকের ধারণা। ফলে গ্যাসোলিনের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

কিছু ভোটার মনে করছেন, দেশীয় অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের বদলে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাপ কমেনি।
সুযোগ দেখছে ডেমোক্র্যাটরা
এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করছে। যেসব গ্রামীণ ও শ্বেতাঙ্গপ্রধান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান ছিল, সেখানে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্যও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের বড় অংশ এখনও দলটির প্রতি পুরোপুরি আস্থা ফিরে পায়নি। ফলে অসন্তুষ্ট ভোটাররা সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
নভেম্বর নির্বাচনে বড় প্রভাবের আশঙ্কা

রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কমে গেলে তা দলের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালে এই শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের বিপুল সমর্থন ট্রাম্পকে ক্ষমতায় ফিরতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু এখন তাদের একাংশ নিরাশ বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অর্থনীতি যদি নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে থাকে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প ও তার দলের জন্য কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তির মূলভিত্তি হিসেবে পরিচিত শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















