যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়া সেনাসদস্য ও সাবেক সেনাদের জীবনে নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে প্রিন্স হ্যারির উদ্যোগে শুরু হওয়া ইনভিকটাস গেমস এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ হাজারো মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রেরণা
২০১৩ সালে আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফার সামরিক দায়িত্ব শেষ করার কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে আহত সেনাসদস্যদের জন্য আয়োজিত একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন প্রিন্স হ্যারি। সেখানে তিনি সরাসরি দেখেন, খেলাধুলা কীভাবে আহত ও যুদ্ধফেরত মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন একটি প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার ভাবনা জন্ম নেয়, যাতে বিভিন্ন দেশের সেনাসদস্য ও সাবেক সেনারা অংশ নিতে পারেন এবং একই ধরনের সুযোগ পান।
একটি বৈশ্বিক আন্দোলনের সূচনা

এক বছরেরও কিছু বেশি সময় পর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ইনভিকটাস গেমস। ‘ইনভিকটাস’ শব্দের অর্থ ‘অপরাজিত’। উদ্বোধনী আসরে ১৩টি দেশের ৪০০-র বেশি সেনাসদস্য ও সাবেক সেনা অংশ নিয়েছিলেন।
প্রিন্স হ্যারির মতে, সামরিক পোশাক ও দেশের পতাকা ধারণ করার মধ্য দিয়ে একজন সেনার পরিচয় গড়ে ওঠে। কিন্তু দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর অনেকেই নিজেদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলেন। ইনভিকটাস গেমস সেই হারিয়ে যাওয়া আত্মপরিচয় ও জীবনের অর্থ ফিরে পেতে সহায়তা করছে।
খেলাধুলার শক্তিতে নতুন জীবন
প্রিন্স হ্যারি নিজেও ছোটবেলায় পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, বন্ধুত্ব এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
তিনি বলেন, ইনভিকটাস গেমস শুধু মানুষের জীবন বদলায় না, অনেক ক্ষেত্রে জীবনও রক্ষা করে। বহু অংশগ্রহণকারী তাঁকে জানিয়েছেন, এই প্রতিযোগিতা না থাকলে তারা হয়তো জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলতেন।

সামনের পথ আরও বড়
আগামী গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অষ্টম ইনভিকটাস গেমসকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৫টি দেশের ৫৫০ জনের মতো প্রতিযোগী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের আসরে ইলেকট্রনিক ক্রীড়া, লেজার রান এবং পিকলবলসহ নতুন কয়েকটি খেলা যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
প্রিন্স হ্যারির আশা, ভবিষ্যতে ইনভিকটাস গেমস আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ ও সম্প্রদায় এই উদ্যোগের ইতিবাচক চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হবে। তাঁর মতে, আহত সেনাদের পাশে দাঁড়ানোর এই বৈশ্বিক পরিবারই ইনভিকটাসের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















