আফ্রিকার চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নতুন চিকিৎসা খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীরা জোরালোভাবে কাজ করছেন। এবার যে ভাইরাসটি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সেটি ইবোলার তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত বান্ডিবুগিও ধরন। এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দ্রুত কার্যকর চিকিৎসা আবিষ্কার এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রধান লক্ষ্য।
চিকিৎসা আছে, কিন্তু এই ভাইরাসের জন্য নয়
গত কয়েক দশকে ইবোলার অন্য ধরনের বিরুদ্ধে কিছু কার্যকর ওষুধ তৈরি হয়েছে। তবে বান্ডিবুগিও ভাইরাসের ক্ষেত্রে সেই ওষুধগুলো কতটা কাজ করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ ভাইরাসগুলোর মধ্যে জিনগত পার্থক্য রয়েছে। অতীতে এই ধরনের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে ছোট আকারে দেখা দেওয়ায় গবেষণাও সীমিত ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিজ্ঞানীদের নতুন করে সক্রিয় করেছে।
কোন ওষুধগুলো নিয়ে চলছে পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সম্ভাবনাময় ওষুধ নিয়ে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে এমবিপি-১৩৪ নামে একটি অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক চিকিৎসা এবং রেমডেসিভির নামের একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় এমবিপি-১৩৪ ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। অন্যদিকে রেমডেসিভির অতীতে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটিও আশাব্যঞ্জক বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্রুত পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি
সাধারণত নতুন ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে গবেষকরা এবার এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবের তথ্য একত্র করে দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হতে পারে। এতে কার্যকর চিকিৎসা শনাক্ত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোগ প্রতিরোধেও সম্ভাবনা
গবেষকরা এমন একটি ওষুধও পরীক্ষা করতে চান, যা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। ওবেলডেসিভির নামে এই ওষুধটি মূলত রেমডেসিভিরের সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী সংস্করণ। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় এটি উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা দিয়েছে। যদি মানুষের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যায়, তাহলে ইবোলা নিয়ন্ত্রণে এটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
বর্তমান প্রাদুর্ভাব এমন একটি অঞ্চলে ঘটছে যেখানে সংঘাত, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্বল অবকাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হলেও তা আক্রান্ত দেশগুলোর মানুষের কাছে কত দ্রুত ও কতটা সহজে পৌঁছাবে, সে প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গবেষণায় সফলতা পেলেও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সব সময় সহজ হয় না।
তবু বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, চলমান পরীক্ষাগুলো সফল হলে শুধু বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের ইবোলা সংকটেও নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















