ভারত ও ফ্রান্স আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মহাকাশ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ব্যাপারেও একমত হয়েছে দুই দেশ।
ফ্রান্স সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বৈশ্বিক নানা ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ
বর্তমানে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রক্রিয়া গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংলাপ চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
দুই দেশ ‘উদ্ভাবন রূপরেখা ২০৩০’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে নতুন সহযোগিতার পথ খুলবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতি
দুই দেশের আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। ভারতের যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণ কর্মসূচি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ নকশা, যৌথ উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর জোর দিয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পারমাণবিক জ্বালানি খাতে বিস্তৃত সুযোগ
বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি খাতেও নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে ছোট ও উন্নত মডুলার চুল্লি প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভারতের নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভারতীয় পারমাণবিক খাতে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশে সহযোগিতা

বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে একটি যৌথ কর্মদল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা, মানব মহাকাশযাত্রা এবং মহাকাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দুই দেশের উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একাধিক সমঝোতা হয়েছে, যা প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
শিক্ষা ও জনসম্পর্কে গুরুত্ব
শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ করার বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বিমান চলাচল খাতে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা
দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেছেন। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত ও ফ্রান্স।
দুই দেশের সর্বশেষ এই উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য নয়, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং শিক্ষা খাতেও সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















