মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সদিচ্ছার ভিত্তিতে নিম্নোক্ত বিষয়ে যৌথভাবে সম্মত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং চলমান যুদ্ধে তাদের মিত্ররা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের মাধ্যমে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রমের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করছে। তারা অঙ্গীকার করছে যে এখন থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু করবে না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে তারা লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে সব ফ্রন্টে, লেবাননসহ, যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি এবং এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধান নিশ্চিত করা হবে।
অনুচ্ছেদ ২
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করছে।
অনুচ্ছেদ ৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও তা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
অনুচ্ছেদ ৪
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং অন্যান্য বাধা বা প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহার শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেবে।
এই সময়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে।
অনুচ্ছেদ ৫
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং এর জন্য কোনো ফি আদায় করবে না।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে। প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং মাইন অপসারণের কাজ সম্পন্ন করে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা নির্ধারণের জন্য ওমান সালতানাতের সঙ্গে আলোচনা করবে। এ বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রের সঙ্গেও আন্তর্জাতিক আইন ও উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারের আলোকে আলোচনা হবে।
অনুচ্ছেদ ৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি নির্দিষ্ট ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নের অঙ্গীকার করছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে।
অনুচ্ছেদ ৭
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রাথমিক ও গৌণ সব নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে পারস্পরিকভাবে সম্মত সময়সূচি অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করছে যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তারা অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা প্রকাশ করছে।
অনুচ্ছেদ ৮
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পুনরায় নিশ্চিত করছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা উন্নয়ন করবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সম্মত হয়েছে যে ইরানের মজুত সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, যা উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে সম্মত হবে এবং যা অনুচ্ছেদ ৭-এ উল্লিখিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ন্যূনতম পদ্ধতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে সাইটেই এই উপাদানকে কম সমৃদ্ধ (ডাউন-ব্লেন্ড) করা হবে।
দুই পক্ষ ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং পারমাণবিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয় নিয়েও আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারিত আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে এই অনুচ্ছেদের বিধানগুলো নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্বীকার করছে যে পারমাণবিক বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা প্রকাশ করছে।
অনুচ্ছেদ ৯
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না কিংবা অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে না।
অনুচ্ছেদ ১০
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকার করছে যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে এবং নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য, উপজাত এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবার রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র প্রদান করবে।
এর মধ্যে ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা, পরিবহন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অনুচ্ছেদ ১১
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকার করছে যে এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জব্দকৃত বা সীমাবদ্ধ তহবিল ও সম্পদ সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এই অর্থ মুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিকভাবে সম্মত হবে।
এই তহবিল মূল হিসাবেই থাকুক বা অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হোক, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাদের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী হিসেবে মনোনীত করবে, তাদের অর্থ পরিশোধের জন্য এই অর্থ সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারযোগ্য হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদান করবে।
অনুচ্ছেদ ১২
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সম্মত হয়েছে যে এই সমঝোতা স্মারক এবং ভবিষ্যতের চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন ও প্রতিপালন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নির্বাহী তদারকি ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
অনুচ্ছেদ ১৩
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এবং অনুচ্ছেদ ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১-এর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার শর্তে, এবং এসব ব্যবস্থার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করবে।
অনুচ্ছেদ ১৪
চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন 


















