রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে এবার ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। আজভ সাগরে চলাচলকারী একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
আজভ সাগরে একের পর এক হামলা
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অন্তত ১২টি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার প্রথমে প্রায় সাত হাজার টন ধারণক্ষমতার আটটি জাহাজে আঘাত হানা হয়। পরে একই দিনে আরও দুটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানানো হয়। এর আগের দিনও একই এলাকায় আরও দুটি জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ট্যাংকার ক্রিমিয়ায় জ্বালানি পৌঁছে দিচ্ছিল এবং রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ক্রিমিয়ার জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এর ফলে সেখানে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইউক্রেনের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ডের সরবরাহব্যবস্থা থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় মস্কোর সক্ষমতা কমে আসে।
সামরিক সরবরাহে বাড়ছে চাপ
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মতে, সমুদ্রপথে জ্বালানি ও গোলাবারুদ পরিবহন ব্যাহত হলে ক্রিমিয়ায় অবস্থানরত রুশ সেনাদের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা জানায়, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করার চেষ্টা করা হবে।
প্রকাশিত ভিডিওতে ট্যাংকারে আঘাতের পর আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাশিয়ার নীরবতা, নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন প্রশ্ন
হামলার বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সময়ে ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায়ও হামলার খবর এসেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর অঞ্চলটি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সেই কারণে ক্রিমিয়ার সরবরাহপথে ধারাবাহিক হামলাকে যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















