০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে? চাপে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: ইরান ইস্যুতে মেলোনিকে ‘ভুল’ বললেন ট্রাম্প সংঘাতের গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নায়িকা, পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় আসছে টিলি নরউড নাটকীয় পাঁচ সেটের লড়াই জিতে ইতিহাস গড়লেন জোকোভিচ, এবার সামনে সিনার পদ হারানোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন মারিন ল্য পেন ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান চট্টগ্রামে ৪২ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে, নতুন বাজারে গতি বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বাংলাদেশসহ নির্বাচিত দেশে সৌদির ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু, ভ্রমণ বুকিংয়ের সঙ্গেই মিলবে ভিসা পুলিশের হাইওয়ে শাখায় নতুন নেতৃত্ব, প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ

পাঁচটি ড্রোন হামলায় কাঁপল ক্রিমিয়া সরবরাহপথ, রাশিয়ার ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন চাপ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে এবার ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। আজভ সাগরে চলাচলকারী একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

আজভ সাগরে একের পর এক হামলা

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অন্তত ১২টি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার প্রথমে প্রায় সাত হাজার টন ধারণক্ষমতার আটটি জাহাজে আঘাত হানা হয়। পরে একই দিনে আরও দুটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানানো হয়। এর আগের দিনও একই এলাকায় আরও দুটি জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ট্যাংকার ক্রিমিয়ায় জ্বালানি পৌঁছে দিচ্ছিল এবং রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

দোনেৎস্কে ইউক্রেনের 'বড় ধরনের' হামলা | শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা  (বাসস)

ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ক্রিমিয়ার জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এর ফলে সেখানে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেনের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ডের সরবরাহব্যবস্থা থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় মস্কোর সক্ষমতা কমে আসে।

সামরিক সরবরাহে বাড়ছে চাপ

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মতে, সমুদ্রপথে জ্বালানি ও গোলাবারুদ পরিবহন ব্যাহত হলে ক্রিমিয়ায় অবস্থানরত রুশ সেনাদের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা জানায়, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করার চেষ্টা করা হবে।

Russian tankers bound for fuel-starved Crimea hit by drones, Kyiv says

প্রকাশিত ভিডিওতে ট্যাংকারে আঘাতের পর আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার নীরবতা, নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

হামলার বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সময়ে ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায়ও হামলার খবর এসেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর অঞ্চলটি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সেই কারণে ক্রিমিয়ার সরবরাহপথে ধারাবাহিক হামলাকে যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে?

পাঁচটি ড্রোন হামলায় কাঁপল ক্রিমিয়া সরবরাহপথ, রাশিয়ার ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন চাপ

০১:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে এবার ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। আজভ সাগরে চলাচলকারী একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

আজভ সাগরে একের পর এক হামলা

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অন্তত ১২টি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার প্রথমে প্রায় সাত হাজার টন ধারণক্ষমতার আটটি জাহাজে আঘাত হানা হয়। পরে একই দিনে আরও দুটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানানো হয়। এর আগের দিনও একই এলাকায় আরও দুটি জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।

ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ট্যাংকার ক্রিমিয়ায় জ্বালানি পৌঁছে দিচ্ছিল এবং রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

দোনেৎস্কে ইউক্রেনের 'বড় ধরনের' হামলা | শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা  (বাসস)

ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ক্রিমিয়ার জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এর ফলে সেখানে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেনের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ডের সরবরাহব্যবস্থা থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় মস্কোর সক্ষমতা কমে আসে।

সামরিক সরবরাহে বাড়ছে চাপ

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মতে, সমুদ্রপথে জ্বালানি ও গোলাবারুদ পরিবহন ব্যাহত হলে ক্রিমিয়ায় অবস্থানরত রুশ সেনাদের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা জানায়, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করার চেষ্টা করা হবে।

Russian tankers bound for fuel-starved Crimea hit by drones, Kyiv says

প্রকাশিত ভিডিওতে ট্যাংকারে আঘাতের পর আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার নীরবতা, নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

হামলার বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সময়ে ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায়ও হামলার খবর এসেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর অঞ্চলটি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সেই কারণে ক্রিমিয়ার সরবরাহপথে ধারাবাহিক হামলাকে যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।