ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে আকস্মিকভাবে উচ্চতা কমে গিয়ে ২৪ জন যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ওই ফ্লাইটের প্রধান পাইলটের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবন করছিলেন।
৪ আগস্টের ওই ঘটনায় উড়োজাহাজটি হঠাৎ প্রায় ৩৬০ ফুট নিচে নেমে যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাইলট জানান, ফুকেটে অবস্থানের সময় তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। ব্যক্তিগত কিছু পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তার ঘুমের সমস্যা চলছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উড়োজাহাজের ভেতরেই ঘুম
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফ্লাইট চলার সময় পাইলট প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট ঘুমিয়েছিলেন। পরে তিনি শৌচাগারে যান এবং ফিরে এসে সহকারী পাইলটের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ঠিক সেই সময় উড়োজাহাজের আকস্মিক উচ্চতা পতনের ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান পাইলট ককপিটের মেঝেতে ছিটকে পড়ে যান। পরে ককপিটের পর্যবেক্ষণ আসনে থাকা একজন কেবিনকর্মী তাকে উঠে দাঁড়াতে সহায়তা করেন।

ওই সময় উড়োজাহাজটি চালাচ্ছিলেন সহকারী পাইলট। প্রধান পাইলট দায়িত্বে ছিলেন পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে।
গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত
ঘটনার পর প্রধান পাইলটের প্রাথমিক মাদক পরীক্ষার ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসে। অর্থাৎ নমুনায় এমন কিছু পাওয়া যায়, যা আরও বিস্তারিত পরীক্ষার প্রয়োজন তৈরি করে। পরবর্তী নিশ্চিত পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
তদন্তকারীদের কাছে পাইলট জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। তবে কোন ওষুধ সেবন করছিলেন এবং কতদিন ধরে তা গ্রহণ করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পাইলট চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ গ্রহণ করলে তা সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে জানাতে হয়। তবে ওই পাইলট তার ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি বিমান সংস্থাকে জানিয়েছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ককপিটে এক মিনিটে নয়টি সতর্কবার্তা
তদন্তে উড়োজাহাজটির কারিগরি তথ্যেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। ফ্লাইটের ত্রুটি-সংক্রান্ত নথিতে সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে নয়টি সতর্কবার্তা রেকর্ড হয়।

এসব সতর্কবার্তার মধ্যে উড়োজাহাজের বিভিন্ন জলচাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় নিম্নচাপ, কয়েকটি জলাধারে তরলের মাত্রা কমে যাওয়া, স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং উড়োজাহাজের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণকারী অংশে ত্রুটির সংকেত ছিল।
এরপর আরও দুটি দরজার জরুরি বহির্গমনসংক্রান্ত সংকেত রেকর্ড হয়। তবে পরবর্তী ৪৩ মিনিটে জলচাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একই ধরনের সতর্কবার্তা আর দেখা যায়নি।
৩৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হঠাৎ নিচে নামে
ফ্লাইটের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৬ হাজার ১৬০ ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এরপর মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে এটি প্রায় ৩৫ হাজার ৮০০ ফুটে নেমে যায়। অর্থাৎ উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৬০ ফুট উচ্চতা হারায়।
তদন্তকারীরা এখন পাইলটের শারীরিক অবস্থা, মাদক পরীক্ষার ফল, ওষুধ সেবনের বিষয় এবং উড়োজাহাজের কারিগরি সতর্কবার্তাগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করছেন। তবে পাইলটের বক্তব্যের ভিত্তিতে ককপিটে ঘটনার সম্পূর্ণ ধারাবাহিকতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















