০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
পানির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়বে নতুন প্রজন্ম হত্যার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের বিমান বদল, গোপনে ছোট সামরিক বিমানে সরানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে তুরস্কে ইরানি হামলার আশঙ্কা, গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হতেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল এক সপ্তাহেই দ্বিতীয়বার সোনার দাম বাড়ল, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার প্রধান নৌঘাঁটিতে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধজাহাজ ও বন্দর অবকাঠামো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ওলি আহমেদের মনোনয়ন জমা, ৩৫ বছর পর মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে ভোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ: মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন জমা, মুখোমুখি বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট ঝু রংজির বইয়ে ফিরে দেখা চীনের এক উদার সময় থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা: নিহত ৯, শোকের ছায়ায় ব্যাংককের উপকণ্ঠ

জাপানের চিপ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে, বড় ভূমিকা সনি-টিএসএমসির

জাপানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। সনি গ্রুপ ও তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসির নতুন ইমেজ সেন্সর কারখানা স্থাপনের ঘোষণা এই বিনিয়োগকে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৩৭ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে।

জাপান এখন আবারও বিশ্বব্যাপী চিপ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে চাইছে। এ লক্ষ্য পূরণে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির বিনিয়োগ যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারও বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে শিল্পটিকে উৎসাহিত করছে।

সনি ও টিএসএমসির নতুন বিনিয়োগ

সনি ও টিএসএমসির সাম্প্রতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জাপানে ইমেজ সেন্সর উৎপাদনের জন্য নতুন কারখানা স্থাপন। স্মার্টফোন, গাড়ি, ক্যামেরা ও বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর যন্ত্রে ইমেজ সেন্সর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই নতুন প্রকল্পের ফলে জাপানের চিপ খাতে বিদেশি কোম্পানির মোট বিনিয়োগ আরও বেড়েছে। এর আগে টিএসএমসি জাপানে দুটি চিপ কারখানা তৈরিতে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে কুমামোতো প্রিফেকচারে নির্মিত ও নির্মাণাধীন কারখানাগুলো রয়েছে।

সরকারি ভর্তুকির পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের আকর্ষণ

জাপান সরকার চিপ উৎপাদন বাড়াতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চিপের গুরুত্ব বাড়ায় দেশটি বিদেশি কোম্পানিকে জাপানে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করছে।

তবে শুধু সরকারি ভর্তুকিই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কারণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণও জাপানের চিপ শিল্পকে নতুন করে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি নতুন বিনিয়োগ করছে।

Sony, TSMC deal brings overseas investment in Japan chipmaking to $37bn -  Nikkei Asia

জাপানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় চিপ উৎপাদক দেশ হলেও জাপান কয়েক দশকে এই শিল্পে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। এখন সরকার ও বেসরকারি খাত আবারও দেশটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

বিদেশি কোম্পানির বড় বিনিয়োগ জাপানে শুধু নতুন কারখানা তৈরি করবে না, এর সঙ্গে প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে টিএসএমসির মতো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ নির্মাতার জাপানে বড় বিনিয়োগ দেশটির শিল্পনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামনে আরও বিনিয়োগের সম্ভাবনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন এবং উন্নত শিল্পযন্ত্রের জন্য চিপের চাহিদা বাড়তে থাকায় জাপানে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। সরকারি সহায়তা ও উন্নত প্রযুক্তি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ মিললে জাপান আবারও বৈশ্বিক চিপ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠতে পারে।

সনি ও টিএসএমসির নতুন প্রকল্প তাই শুধু একটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নয়; বরং জাপানের চিপ শিল্পকে নতুন করে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

জাপানের চিপ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ এখন প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—যা দেশটির প্রযুক্তি ও শিল্পনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাপানের চিপ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; সনি ও টিএসএমসির নতুন প্রকল্পে আরও শক্তিশালী হচ্ছে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর খাত।

জনপ্রিয় সংবাদ

পানির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়বে নতুন প্রজন্ম

জাপানের চিপ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে, বড় ভূমিকা সনি-টিএসএমসির

০৭:২৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জাপানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। সনি গ্রুপ ও তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসির নতুন ইমেজ সেন্সর কারখানা স্থাপনের ঘোষণা এই বিনিয়োগকে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৩৭ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে।

জাপান এখন আবারও বিশ্বব্যাপী চিপ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে চাইছে। এ লক্ষ্য পূরণে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির বিনিয়োগ যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারও বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে শিল্পটিকে উৎসাহিত করছে।

সনি ও টিএসএমসির নতুন বিনিয়োগ

সনি ও টিএসএমসির সাম্প্রতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জাপানে ইমেজ সেন্সর উৎপাদনের জন্য নতুন কারখানা স্থাপন। স্মার্টফোন, গাড়ি, ক্যামেরা ও বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর যন্ত্রে ইমেজ সেন্সর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই নতুন প্রকল্পের ফলে জাপানের চিপ খাতে বিদেশি কোম্পানির মোট বিনিয়োগ আরও বেড়েছে। এর আগে টিএসএমসি জাপানে দুটি চিপ কারখানা তৈরিতে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে কুমামোতো প্রিফেকচারে নির্মিত ও নির্মাণাধীন কারখানাগুলো রয়েছে।

সরকারি ভর্তুকির পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের আকর্ষণ

জাপান সরকার চিপ উৎপাদন বাড়াতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চিপের গুরুত্ব বাড়ায় দেশটি বিদেশি কোম্পানিকে জাপানে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করছে।

তবে শুধু সরকারি ভর্তুকিই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কারণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণও জাপানের চিপ শিল্পকে নতুন করে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি নতুন বিনিয়োগ করছে।

Sony, TSMC deal brings overseas investment in Japan chipmaking to $37bn -  Nikkei Asia

জাপানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় চিপ উৎপাদক দেশ হলেও জাপান কয়েক দশকে এই শিল্পে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। এখন সরকার ও বেসরকারি খাত আবারও দেশটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

বিদেশি কোম্পানির বড় বিনিয়োগ জাপানে শুধু নতুন কারখানা তৈরি করবে না, এর সঙ্গে প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে টিএসএমসির মতো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ নির্মাতার জাপানে বড় বিনিয়োগ দেশটির শিল্পনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামনে আরও বিনিয়োগের সম্ভাবনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন এবং উন্নত শিল্পযন্ত্রের জন্য চিপের চাহিদা বাড়তে থাকায় জাপানে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। সরকারি সহায়তা ও উন্নত প্রযুক্তি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ মিললে জাপান আবারও বৈশ্বিক চিপ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠতে পারে।

সনি ও টিএসএমসির নতুন প্রকল্প তাই শুধু একটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নয়; বরং জাপানের চিপ শিল্পকে নতুন করে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

জাপানের চিপ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ এখন প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—যা দেশটির প্রযুক্তি ও শিল্পনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাপানের চিপ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; সনি ও টিএসএমসির নতুন প্রকল্পে আরও শক্তিশালী হচ্ছে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর খাত।