চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৬৬৭ নারী ও শিশু নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩ জন কন্যাশিশু ও ২৫৮ জন নারী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ২৯২ নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রোববার এক মানববন্ধনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবি
দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও সহিংসতার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সেখানে সংগঠনটির নেতারা নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সংগঠনটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৮৩ কন্যাশিশু ও ২৫৮ নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩১টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তথ্যে উঠে আসেনি সহিংসতার পুরো চিত্র
ফওজিয়া মোসলেম বলেন, মহিলা পরিষদের হাতে আসা পরিসংখ্যান বাস্তবে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার প্রকৃত চিত্রের তুলনায় কম হতে পারে। কারণ, সংগঠনটি মূলত ১৪টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।
তার ভাষ্য, দেশের আরও অনেক গণমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হয়। সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য একত্র করা সম্ভব হলে সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার নারীদের জন্য দেশে কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, সাত মাসে ১ হাজার ৬৬৭ নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৯২ নারী ও কন্যাশিশু।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে দেশে নারী ও শিশুরা কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার পাশাপাশি তারা হত্যা, নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না।
শিশুরাও যৌন সহিংসতার শিকার
মালেকা বানু আরও বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিণত হওয়ার আগেই অনেক শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এমনকি যারা এখনো নিজেদের নারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তারাও এই ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নারীরা সহিংসতার প্রধান লক্ষ্য হয়ে আসছেন।
সহিংসতা ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান
বক্তারা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং এর বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা মানবাধিকার সুরক্ষা ও নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সাত মাসের এই পরিসংখ্যান নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন।
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই ২০২৬ সময়ে নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা ১ হাজার ৬৬৭টি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















