কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী বড় বিপ্লব এবার শুধু কম্পিউটারের পর্দায় নয়, বাস্তব জগতেও ছড়িয়ে পড়ছে। কারখানা, গুদাম, হাসপাতাল, কৃষিখামার, গবেষণাগার এমনকি মানুষের ঘরেও কাজ করতে সক্ষম রোবট তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই বাস্তব জগতে কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৪৯২টি চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।
হার্ডওয়্যারের দাম কমে যাওয়া, শ্রমিক সংকট, উৎপাদন নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি—সব মিলিয়ে রোবট প্রযুক্তি এখন প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। বিনিয়োগকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ২৫টি রোবট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে।
মানুষের মতো কাজ শেখানোর নতুন যুগ
রোবট প্রযুক্তির এই নতুন ধারায় শুধু মানুষের মতো দেখতে যন্ত্র তৈরি হচ্ছে না। বরং এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন ধরনের রোবটকে নতুন কাজ শেখাতে পারে, বাস্তব পরিবেশ বুঝতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কিছু প্রতিষ্ঠান রোবটের জন্য সাধারণ বুদ্ধিমত্তা তৈরিতে কাজ করছে। কেউ তৈরি করছে মানুষের মতো রোবট, কেউ আবার নির্দিষ্ট শিল্পে ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত যন্ত্র বানাচ্ছে। পাশাপাশি রোবটকে শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।
১. অ্যাভাটার রোবোটিক্স
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক অ্যাভাটার রোবোটিক্স গুদামে পণ্য বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত রোবট ব্যবহার করছে। মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের কর্মীরা দূরনিয়ন্ত্রক ও ভার্চুয়াল বাস্তবতা প্রযুক্তির মাধ্যমে রোবট পরিচালনা করেন।
এই কাজের সময় সংগৃহীত তথ্য আবার রোবটকে আরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শেখাতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ভবিষ্যতে কারখানা, খামার ও খনিতে লাখ লাখ রোবট মোতায়েন করা।
২. কোবট
কোবটের তৈরি ‘প্রক্সি’ নামের চলমান রোবট হাসপাতাল, কারখানা ও পণ্য পরিবহনকেন্দ্রে মানুষের সঙ্গে কাজ করে। এটি বিভিন্ন সামগ্রী ও গাড়ি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে পারে।
প্রথম প্রজন্মের রোবটগুলো প্রায় ১৩ হাজার ঘণ্টা কাজ করেছে এবং দেড় লাখের বেশি গাড়ি সরিয়েছে। নতুন সংস্করণটি আরও ছোট, শক্তিশালী এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা হয়েছে।
৩. ড্যাশ বায়ো
ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে হাতে করা পরীক্ষার বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করার কাজ করছে ড্যাশ বায়ো। নমুনা প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষা পর্যন্ত রোবটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ব্যবস্থায় কয়েক দিনের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ১০ গুণ দ্রুত।
৪. ডেক্সটারিটি
ডেক্সটারিটি বিভিন্ন ধরনের রোবট নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম একটি সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করছে। তাদের প্রধান রোবট ‘মেক’ বড় বাক্স ওঠানো, ট্রাকে মাল তোলা এবং পণ্য সাজানোর মতো কাজে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোনভাবে পণ্য সাজালে সবচেয়ে কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানও তাদের রোবটের ব্যবহার বাড়িয়েছে।
৫. ফিল্ডএআই
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিল্ডএআই এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা বিভিন্ন ধরনের রোবটকে অনিশ্চিত পরিবেশে নিরাপদে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
নির্মাণ, তথ্যকেন্দ্র ও প্রতিরক্ষা খাতের ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কাজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় ও গ্রাহক চুক্তি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।
৬. ফক্সগ্লোভ
রোবট থেকে পাওয়া বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, ত্রুটি শনাক্ত এবং কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছে ফক্সগ্লোভ।
প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। স্বয়ংচালিত যান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
৭. জেনারেলিস্ট
জেনারেলিস্ট এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করছে, যা কারখানা, গবেষণাগার ও ঘরে বিভিন্ন ধরনের রোবট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
রোবটের হাতের মতো কম খরচের হাজার হাজার যন্ত্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে তারা পাঁচ লাখ ঘণ্টার বেশি প্রশিক্ষণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। কাপড় ভাঁজ করা বা পণ্য বাক্সে ভরার মতো কাজেও তাদের প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠছে।
৮. গেকো রোবোটিক্স
বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাইপলাইন ও নৌবাহিনীর জাহাজ পরীক্ষা করতে দেয়ালে ওঠা রোবট তৈরি করছে গেকো রোবোটিক্স।
মানুষের জন্য বিপজ্জনক পরিদর্শনের কাজ রোবট দিয়ে করানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পরে প্রতিষ্ঠানটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারও তৈরি করেছে।
৯. গ্রেম্যাটার
কারখানায় ধাতু ঘষা, মসৃণ করা, পরিষ্কার ও প্রলেপ দেওয়ার মতো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট তৈরি করছে গ্রেম্যাটার।
গিটার থেকে যুদ্ধবিমান—বিভিন্ন ধরনের পণ্যে তাদের রোবট কাজ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সংগৃহীত উৎপাদন তথ্যের পরিমাণ ৭ পেটাবাইট ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
১০. মেশিনা ল্যাবস
ডিজিটাল নকশা থেকে জটিল ধাতব যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য রোবটনির্ভর কারখানা তৈরি করছে মেশিনা ল্যাবস।
তাদের ব্যবস্থায় রোবটিক বাহু, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে কাজ করে। একই কারখানায় অল্প সময়ের মধ্যে ভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত কারখানার তুলনায় বেশি নমনীয় উৎপাদনব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।
১১. ম্যাটার
ড্রোন ও রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য স্বয়ংক্রিয় কারখানা তৈরি করছে ম্যাটার। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে শ্রমনির্ভর না রেখে সফটওয়্যারনির্ভর করা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪ হাজার বর্গফুটের একটি কারখানা চালু করে তারা ইতোমধ্যে গ্রাহকদের জন্য রোবটের যন্ত্রাংশ উৎপাদন শুরু করেছে।
১২. মেকা এআই
রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাস্তব জগতের তথ্য সংগ্রহ করছে মেকা এআই। মানুষ কীভাবে বিভিন্ন কাজ করে, তা মোবাইল ফোন ও পরিধানযোগ্য যন্ত্রের মাধ্যমে ধারণ করে সেসব তথ্য রোবট প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি মানুষের হাতের নড়াচড়া, দৃশ্য ও শক্তি প্রয়োগের মতো তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ সেন্সরযুক্ত দস্তানাও তৈরি করছে।
১৩. মিমিক
জটিল শিল্পকাজের জন্য মানুষের হাতের মতো দক্ষ রোবটিক হাত তৈরি করছে সুইজারল্যান্ডের মিমিক।
শ্রমিকেরা বিশেষ দস্তানা পরে কোনো কাজ করে দেখালে সেই নড়াচড়ার তথ্য ব্যবহার করে রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও তাদের প্রযুক্তি কারখানায় পরীক্ষা করছে।
১৪. নোবেল মেশিনস
বিপজ্জনক ও শারীরিকভাবে কঠিন শিল্পকাজের জন্য মানুষের মতো রোবট তৈরি করছে নোবেল মেশিনস। তাদের ‘মবি’ রোবট নির্মাণ, জ্বালানি ও শিল্পকারখানে কাজ করার জন্য তৈরি হচ্ছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি রোবটের কয়েকটি প্রজন্ম তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে একজন নতুন কর্মীকে যে সময় প্রশিক্ষণ দিতে হয়, প্রায় সেই সময়ের মধ্যেই রোবটকে নতুন দক্ষতা শেখানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
১৫. প্যালেশিয়াল
বাস্তব জগতে কাজ করার আগে রোবটকে ভার্চুয়াল পরিবেশে অনুশীলনের সুযোগ দিতে কাজ করছে প্যালেশিয়াল।
রোবটের প্রশিক্ষণের জন্য হাজার হাজার কৃত্রিম পরিবেশ ও বস্তুর প্রয়োজন হয়। সেই ভার্চুয়াল পরিবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দুই শতাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের প্রযুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
১৬. স্কিল্ড এআই
রোবটের জন্য একটি সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরি করছে স্কিল্ড এআই। রোবটিক বাহু, মানুষের মতো রোবট, চার পায়ের রোবট কিংবা চলমান রোবট—বিভিন্ন যন্ত্রকে নতুন কাজ শেখানোই তাদের লক্ষ্য।
নিরাপত্তা, নির্মাণ, গুদাম ও উৎপাদন খাতে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। বড় প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উৎপাদন লাইনে রোবট নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তারা কাজ করছে।
১৭. সানডে রোবোটিক্স
ঘরের কাজ করার জন্য ‘মেমো’ নামের রোবট তৈরি করছে সানডে রোবোটিক্স। কাপড় ভাঁজ করার পরীক্ষায় অপরিচিত ঘরেও রোবটটি ৯৯ শতাংশের বেশি সফল হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
আগামী শরতে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু পরিবারের ঘরে রোবটটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে মেঝে পরিষ্কার, খেলনা গোছানো এবং কফি তৈরির মতো কাজও শেখানো হবে।
১৮. সিনফনি
কৃষিকাজে রোবট ব্যবহারের জন্য বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করছে সিনফনি। তাদের প্রথম লক্ষ্য স্ট্রবেরি তোলা।
খামারের শ্রমিকদের হাতে বিশেষ তথ্যসংগ্রাহক দস্তানা পরিয়ে তাদের কাজের তথ্য নেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য ব্যবহার করে রোবটকে ফল শনাক্ত ও তোলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গুদামে পণ্য সাজানোর কাজেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯. ইউনিট্রি
চীনের ইউনিট্রি মানুষের মতো ও চার পায়ের রোবট তৈরি করছে। গবেষণা, ভোক্তা ব্যবহার ও শিল্পক্ষেত্র—তিন ধরনের বাজারেই তাদের রোবট রয়েছে।
২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষের মতো রোবট সরবরাহ করেছে বলে দাবি করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ। সাংহাইয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০. আপসাইড রোবোটিক্স
কৃষিক্ষেত্রে সার ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে ছোট সৌরশক্তিচালিত রোবট তৈরি করছে কানাডার আপসাইড রোবোটিক্স।
রোবটগুলো প্রতিটি গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি শিকড়ের কাছে সার প্রয়োগ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে সার ব্যবহারের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
২১. ওয়ালডেন রোবোটিক্স
কারখানা ও গুদামে ভারী ও একঘেয়ে কাজ করার জন্য সাধারণ ব্যবহারের রোবট তৈরি করছে ওয়ালডেন রোবোটিক্স।
মানুষের মতো পা ব্যবহার না করে তাদের রোবট চাকার ওপর চলে। এতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ে এবং বড় ব্যাটারি ও বেশি কম্পিউটিং ব্যবস্থা রাখার সুযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রাহকদের কারখানায় আট ঘণ্টার পালায় রোবট চালু করতে সক্ষম হয়েছে।
২২. ওয়েস্টম্যাগ
ড্রোন ও রোবটের জন্য মোটর ও চালনা ব্যবস্থা তৈরি করছে ওয়েস্টম্যাগ। এই ধরনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে চীনের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সান ফ্রান্সিসকোর দক্ষিণে তাদের প্রথম কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে।
২৩. এক্সডিওএফ
রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব জগতের তথ্য সংগ্রহ ও সংগঠিত করছে এক্সডিওএফ।
মানুষ কীভাবে রোবট নিয়ন্ত্রণ করে এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রায় ২০টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে তারা। বিনিয়োগকারীদের মতে, রোবটের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ তথ্যের ঘাটতি পূরণে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২৪. জিপলাইন
স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ, খাবার ও বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করছে জিপলাইন।
২০১৬ সালে রুয়ান্ডায় রক্ত সরবরাহ দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাদের সরবরাহসেবা ব্যবহারকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩ গুণ বেড়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
২৫. ওয়ানরোবট
মানুষ, রোবট, স্বয়ংক্রিয় যান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ব্যবস্থাকে একসঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তব জগতের কাজ সম্পন্ন করার সফটওয়্যার তৈরি করছে ওয়ানরোবট।
কোনো দুর্ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় রোবট, কর্মী ও স্বয়ংক্রিয় যান ঘটনাস্থলে পাঠানোর মতো কাজ এই ব্যবস্থায় করা সম্ভব।
রোবট বিপ্লবের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও এই খাত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রযুক্তি বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশেষ করে মানুষের মতো রোবট এবং ঘরের সাধারণ কাজ করতে সক্ষম রোবট নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। মানুষের মতো হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া, বাস্তব পরিবেশে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ মানসম্মত প্রশিক্ষণ তথ্য সংগ্রহ—এসব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বলছে, প্রযুক্তি খাতের পরবর্তী বড় প্রতিযোগিতা শুধু তথ্য ও সফটওয়্যারের জগতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাস্তব জগতে কাজ করাতে পারা প্রতিষ্ঠানগুলোই আগামী দিনের শিল্পব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।
রোবট প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিল্প স্বয়ংক্রিয়তার এই নতুন দৌড় তাই শুধু নতুন যন্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভবিষ্যতের কারখানা, কৃষি, সরবরাহব্যবস্থা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাঠামো বদলে দেওয়ার সম্ভাব্য সূচনা।
২০২৬ সালে রোবট প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত ২৫ প্রতিষ্ঠানের এই তালিকাই তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















