১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

চট্টগ্রামে ফের হাঁটু-সমান পানিতে সড়ক, ১৪,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

রোববার রাত থেকে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকাগুলো। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অনেক সড়ক ও গলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিচতলায়।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পর চকবাজার, বাকলিয়া, কাটালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, দক্ষিণ হালিশহর, পাঠানটুলি ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

কোমরসমান পানিতে ডুবল সড়ক

সোমবার সকালে চকবাজার ও কাটালগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়, সড়কের ওপর কোমরসমান পানি জমে আছে। ময়লা পানির মধ্য দিয়ে পথচারীদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। পানিতে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় নগরের বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয় তীব্র ভোগান্তি।

আগ্রাবাদের মুহুরীপাড়াতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বাসিন্দাদেরও পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়।

সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে যানজট ও পরিবহন সংকট দেখা দেয়। অনেক মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে হেঁটে কর্মস্থলের দিকে রওনা হন। রিকশা পাওয়া গেলেও কোনো কোনো চালক স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দাবি করেছেন বলে যাত্রীরা জানান।

আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার কর্মী তৌহিদুল সালাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেও ওই এলাকার অনেক সড়কে পানি জমে। তবে রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। যানবাহন না পাওয়ায় অনেককেই হেঁটে অফিসে যেতে হয়েছে এবং কোনো কোনো রিকশাচালক তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া চেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। পরিবহন সংকট ও জলমগ্ন সড়কের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে যেতে পারেনি। কোথাও কোথাও ক্লাস স্থগিত বা বাতিলও করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

১৪,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই একের পর এক ভারী বৃষ্টিতে একই এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। তাদের প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয় ও একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন একই সড়ক ও বসতবাড়িতে বারবার পানি ঢুকছে।

নগরবাসীর দাবি, শুধু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না। পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা, খাল ও নালা-নর্দমার ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ব্যয়বহুল জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প থেকে নগরবাসী বাস্তবে কতটা সুফল পাবেন, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় ১৪,৫০০ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

চট্টগ্রামে ফের হাঁটু-সমান পানিতে সড়ক, ১৪,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

০৭:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

রোববার রাত থেকে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকাগুলো। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অনেক সড়ক ও গলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিচতলায়।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পর চকবাজার, বাকলিয়া, কাটালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, দক্ষিণ হালিশহর, পাঠানটুলি ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

কোমরসমান পানিতে ডুবল সড়ক

সোমবার সকালে চকবাজার ও কাটালগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়, সড়কের ওপর কোমরসমান পানি জমে আছে। ময়লা পানির মধ্য দিয়ে পথচারীদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। পানিতে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় নগরের বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয় তীব্র ভোগান্তি।

আগ্রাবাদের মুহুরীপাড়াতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বাসিন্দাদেরও পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়।

সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে যানজট ও পরিবহন সংকট দেখা দেয়। অনেক মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে হেঁটে কর্মস্থলের দিকে রওনা হন। রিকশা পাওয়া গেলেও কোনো কোনো চালক স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দাবি করেছেন বলে যাত্রীরা জানান।

আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার কর্মী তৌহিদুল সালাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেও ওই এলাকার অনেক সড়কে পানি জমে। তবে রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। যানবাহন না পাওয়ায় অনেককেই হেঁটে অফিসে যেতে হয়েছে এবং কোনো কোনো রিকশাচালক তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া চেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। পরিবহন সংকট ও জলমগ্ন সড়কের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে যেতে পারেনি। কোথাও কোথাও ক্লাস স্থগিত বা বাতিলও করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

১৪,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই একের পর এক ভারী বৃষ্টিতে একই এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। তাদের প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয় ও একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন একই সড়ক ও বসতবাড়িতে বারবার পানি ঢুকছে।

নগরবাসীর দাবি, শুধু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না। পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা, খাল ও নালা-নর্দমার ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ব্যয়বহুল জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প থেকে নগরবাসী বাস্তবে কতটা সুফল পাবেন, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় ১৪,৫০০ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।