পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ‘মাঝারি মাত্রায় অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা সীমিত করে resilient housing বা দুর্যোগসহনশীল আবাসন সহায়তা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তসহ একাধিক কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের ১২ আগস্ট প্রকাশিত মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন প্রজেক্ট’ বা আইএফআরএপি-এর অগ্রগতি ছয় মাস আগের ‘মাঝারি মাত্রায় সন্তোষজনক’ অবস্থান থেকে ‘মাঝারি মাত্রায় অসন্তোষজনক’ পর্যায়ে নামানো হয়েছে।
আবাসন সহায়তায় সীমা নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ৭৪ হাজারের বেশি পরিবার ইতোমধ্যে আবাসন সহায়তার প্রথম কিস্তি পেয়েছে। তবে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি উপকারভোগীর সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অবশিষ্ট যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য অর্থের ঘাটতি, অভিযোগ নিষ্পত্তির জটিলতা এবং যোগাযোগসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা তৈরি করতে পারে।
এর আগে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বোলোরোমা আমগাবাজারও আবাসন সহায়তার প্রথম কিস্তির উপকারভোগী ৬২ হাজার ৯৬৬ জনে সীমিত করা এবং মোট ৯৭ হাজার মানুষের জন্য ভর্তুকি সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।
অবকাঠামো ও দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থায় অগ্রগতি
প্রকল্পের প্রথম অংশে সেচব্যবস্থা, সড়ক ও সেতু উন্নয়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, এ অংশের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, বাস্তবায়ন ইউনিট শক্তিশালীকরণ এবং বিস্তারিত নকশা ও দরপত্রের নথি প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ক্রয়প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত তিনটি প্রধান ফলাফল সূচকের কোনোটিই এখনো অর্জিত হয়নি।
দ্বিতীয় অংশে রয়েছে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্যসেবা। নতুন উপপ্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্রের চুক্তি দেওয়ার পর এ অংশের বাস্তবায়নে গতি বেড়েছে। তবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেটর নিয়োগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়প্রক্রিয়া এখনো বাকি।
পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন
বন্যাসহিষ্ণু আবাসন অংশে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পের খাতভিত্তিক নীতি ও কৌশল এবং কারিগরি নকশাসংক্রান্ত ঝুঁকি ‘উচ্চ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে বিশ্বব্যাংক। রাজনৈতিক ও শাসনসংক্রান্ত ঝুঁকিও ‘উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের একটি কারিগরি মিশন আরও জানিয়েছে, ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটি অংশীজনদের সম্পৃক্ততা ও তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ ছিল। প্রকল্পের পরিধিতে বড় পরিবর্তন আনা হলেও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশোধিত প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ৪৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার শর্ত থাকলেও তা এখনো দেওয়া হয়নি। চলতি অর্থবছরের অধিকাংশ বাস্তবায়ন ইউনিটের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেটও জমা পড়েনি। এতে বর্তমান অর্থবছরে হওয়া ব্যয়ের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
অক্টোবরে হবে পরবর্তী মূল্যায়ন
এসব ঘাটতির কারণে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মূল্যায়নও ‘মাঝারি মাত্রায় অসন্তোষজনক’ করা হয়েছে। আগামী অক্টোবরের পরবর্তী পর্যালোচনা মিশনে এ রেটিং পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
এদিকে পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তারা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন যেন বেলুচিস্তানের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন পূরণে সরাসরি কাজে লাগে, সেটিই তাদের অগ্রাধিকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















