দক্ষিণ ফিলিপাইনের জাম্বোয়াঙ্গা শহরের একটি বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় এক শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছে। হামলাকারীও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হামলার পর সে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার জাম্বোয়াঙ্গা শহরের আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে প্রবেশ করে। এরপর শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার
জাম্বোয়াঙ্গার মেয়র খাইমার আদান ওলাসো জানিয়েছেন, হামলাকারী শরীরে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করছিল।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায়। পরে অস্ত্র পরিবর্তন করে দ্বিতীয় একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে আবারও গুলি চালায়। ভিডিওতে মেঝেতে একজন শিক্ষার্থীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির ছাত্র। হামলাকারী ছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বাবার অস্ত্র ব্যবহার
হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি হামলাকারীর বাবার নামে ইস্যু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের শুল্ক বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ওই বাবা শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা। ঘটনার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা দ্বিতীয় অস্ত্রটিও হামলাকারীর বাবার বৈধ ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলায় পাওয়া যায়। হামলাকারীকে পরে পঞ্চম তলায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আতঙ্কে আহত আরও কয়েকজন
গুলি চলার পর বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে ভবন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। আতঙ্কে পালাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। পেছনে একাধিক গুলির শব্দও শোনা যায়।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

দুই মাসে দ্বিতীয় হামলা
ফিলিপাইনে বিদ্যালয়ে এ ধরনের গুলির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে পটভূমি যাচাই ও মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়নের মতো প্রক্রিয়াও রয়েছে। তবে অবৈধ অস্ত্রের প্রচলন এখনো রয়েছে।
এর আগে জুন মাসে মধ্য ফিলিপাইনের তাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিল। ওই হামলায় বিদ্যালয়েরই দুই শিক্ষার্থী গুলি চালিয়েছিল।
ফিলিপাইনে নতুন হামলার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও বিদ্যালয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠের একটি বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী গুলি চালিয়ে হামলা চালিয়েছিল।
বিদ্যালয়কে নিরাপদ রাখার নির্দেশ
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সহিংসতা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় হলো এমন জায়গা যেখানে শিশুরা শেখে, বেড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্ন দেখে। তাই দেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর মধ্যে বিদ্যালয়ও থাকা উচিত।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















