তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়া নারী সরকারি কর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের তামিলনাড়ু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও এক বছরের ছুটি
বর্তমানে তামিলনাড়ুতে দুইয়ের কম সন্তান থাকা নিয়মিত নারী সরকারি কর্মীরা সর্বোচ্চ ৩৬৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। তবে দুই বা তার বেশি জীবিত সন্তান থাকা নারী কর্মীদের জন্য ছুটির মেয়াদ সীমাবদ্ধ ছিল ১২ সপ্তাহে।
রাজ্যের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ডি সারথকুমার বিধানসভায় তাঁর দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার সময় নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, নারী কল্যাণ ও ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের নীতির অংশ হিসেবে তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়া নারী সরকারি কর্মীদের বর্তমান ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন করা হবে।
![]()
ধাপে ধাপে বেড়েছে মাতৃত্বকালীন ছুটি
তামিলনাড়ুতে সরকারি নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ গত দেড় দশকে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। ২০১১ সালে ৯০ দিনের ছুটি বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে তা বাড়িয়ে নয় মাস করা হয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ছুটির মেয়াদ এক বছর বা ৩৬৫ দিনে উন্নীত করা হয়।
তবে এতদিন এক বছরের ছুটির সুবিধা মূলত দুইয়ের কম জীবিত সন্তান থাকা নারী কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়া নারী সরকারি কর্মীরাও এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বিধায়ককে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ঘোষণা
তামিলনাড়ু সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালে নবজাতক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আসায় ক্ষমতাসীন দলের এক নারী বিধায়ক পল্লবীকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

তিনি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সময় শিশুটিকে একজন পরিচর্যাকারীর কাছে রেখে যান। বিধানসভা ভবনের কাছাকাছি একটি কক্ষে শিশুটির দেখাশোনা করা হয়।
এর আগে পল্লবী তাঁর নবজাতক সন্তানকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় মুখ্যমন্ত্রী শিশুটিকে আশীর্বাদ করেন।
সন্তানকে সব জায়গায় সঙ্গে নেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে পল্লবী বলেন, নবজাতক সন্তানকে বাড়িতে রেখে তাঁর পক্ষে বিধানসভায় আসা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি না বুঝে একজন মায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্রূপ না করার আহ্বানও জানান তিনি।
তামিলনাড়ু সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত নারী সরকারি কর্মীদের সন্তান জন্মদান ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















