০২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
গ্যাসের তীব্র সংকটে নরসিংদীর কারখানায় জ্বলছে কাঠ, কমেছে উৎপাদন ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’-এর নাম নিয়ে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা ডেমন হান্টারের এক্সিলারেট টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং গ্যাসসংকটে নারায়ণগঞ্জের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা নারী-পুরুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার পার্থক্যের পেছনে ১,০০০-এর বেশি জেনেটিক সুইচ রোবটের আসছে ‘চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত’, বদলে যেতে পারে ঘরের কাজের ধরন গ্যাসসংকটে গাজীপুরের শিল্পকারখানা, হাতে পোশাক ইস্ত্রি—বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ছয় বছর পর ব্রিটেনে ফিরছেন হ্যারি-মেগান, সেপ্টেম্বরে স্কুলে যাবে সন্তানরাও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ বলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব ক্যানসার কোষেই সক্রিয় হবে নতুন ‘স্মার্ট’ ওষুধ, সুস্থ কোষ থাকবে সুরক্ষিত

পশ্চিম তীরের বসতি প্রকল্প বন্ধে ইসরায়েলকে ব্রিটেনের কড়া হুঁশিয়ারি

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিতর্কিত বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়েছে ব্রিটেন। এ নিয়ে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অবিলম্বে প্রকল্পের কাজ বন্ধ এবং নতুন আবাসন নির্মাণের দরপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলের নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগ ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক’। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে ভবিষ্যৎ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ির দরপত্র

পশ্চিম তীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ই১’ এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বন্ধ করতে ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

মিলিব্যান্ড জানান, তিনি বিষয়টি সরাসরি ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে প্রকল্পটি অবিলম্বে বন্ধের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ ‘ব্যাপক কিছু ব্যবস্থা’ ঘোষণা করা হবে।

The E-1 Settlement Plan Is Delayed but Not Dead

জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা

জেরুজালেমের পূর্বদিকে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ই১ প্রকল্পটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলাকাটি জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি বাড়ি নির্মাণের কথা রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যকার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও এর আগে প্রকল্পটিকে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

নির্বাচনের আগে নির্মাণ ত্বরান্বিত করার অভিযোগ

ইসরায়েলি আবাসন মন্ত্রণালয় ১৮ আগস্ট নতুন দরপত্র প্রকাশ করে। এতে ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর।

Israel Greenlights E1 Settlements, Undermining Palestinian Contiguity | PNN

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজের প্রতিশ্রুতি পাকাপোক্ত করতেই সরকার প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। গত বছর ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ২১টি দেশ ই১ প্রকল্পের অনুমোদনের নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল।

পূর্ব জেরুজালেম বাদ দিলে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। একই এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতিও রয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে ধ্বংস করার কোনো উদ্যোগকে ব্রিটেন নীরবে মেনে নেবে না।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই ব্রিটেনের এই কঠোর অবস্থান সামনে এলো।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাসের তীব্র সংকটে নরসিংদীর কারখানায় জ্বলছে কাঠ, কমেছে উৎপাদন

পশ্চিম তীরের বসতি প্রকল্প বন্ধে ইসরায়েলকে ব্রিটেনের কড়া হুঁশিয়ারি

০১:১৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিতর্কিত বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়েছে ব্রিটেন। এ নিয়ে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অবিলম্বে প্রকল্পের কাজ বন্ধ এবং নতুন আবাসন নির্মাণের দরপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলের নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগ ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক’। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে ভবিষ্যৎ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ির দরপত্র

পশ্চিম তীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ই১’ এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বন্ধ করতে ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

মিলিব্যান্ড জানান, তিনি বিষয়টি সরাসরি ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে প্রকল্পটি অবিলম্বে বন্ধের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ ‘ব্যাপক কিছু ব্যবস্থা’ ঘোষণা করা হবে।

The E-1 Settlement Plan Is Delayed but Not Dead

জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা

জেরুজালেমের পূর্বদিকে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ই১ প্রকল্পটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলাকাটি জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি বাড়ি নির্মাণের কথা রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যকার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও এর আগে প্রকল্পটিকে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

নির্বাচনের আগে নির্মাণ ত্বরান্বিত করার অভিযোগ

ইসরায়েলি আবাসন মন্ত্রণালয় ১৮ আগস্ট নতুন দরপত্র প্রকাশ করে। এতে ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর।

Israel Greenlights E1 Settlements, Undermining Palestinian Contiguity | PNN

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজের প্রতিশ্রুতি পাকাপোক্ত করতেই সরকার প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। গত বছর ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ২১টি দেশ ই১ প্রকল্পের অনুমোদনের নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল।

পূর্ব জেরুজালেম বাদ দিলে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। একই এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতিও রয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে ধ্বংস করার কোনো উদ্যোগকে ব্রিটেন নীরবে মেনে নেবে না।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই ব্রিটেনের এই কঠোর অবস্থান সামনে এলো।