ভারতের করুরে এক ঠিকাদার স্মার্টফোন শরীরে বেঁধে নিজের সবজি কাটার দৃশ্য ধারণ করছেন। এই দক্ষতাহীন কাজের জন্য ঘণ্টায় ২ দশমিক ৫০ ডলার দেওয়া হয়। ধারণ করা এসব ভিডিও এআই মডেল প্রশিক্ষণে কাজে লাগে।
রবি রাজালিঙ্গম বাম দিক থেকে দ্বিতীয় ব্যক্তি। ২০১৯ সালে তিনি ডেটা অ্যানোটেশন প্রতিষ্ঠান অবজেক্টওয়েজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা রোবটকে ডেটা দিচ্ছি এবং বলছি—এটা থেকে শেখো।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের প্রমাণ সাধারণত দেখা যায় বিশাল আকৃতির, জানালাবিহীন ডেটা সেন্টারে—যেখানে একরের পর একর জায়গাজুড়ে থাকে অসংখ্য হার্ডওয়্যার। কিন্তু ভারতের দক্ষিণ প্রান্তের কাছাকাছি করুর শহরে এআইয়ের বিস্তার দেখা যাচ্ছে মানুষের কর্মচাঞ্চল্যের মধ্যেই।
সপ্তাহের যেকোনো কর্মদিবসে বিকেলের দিকে কফি-বিরতির সময়ে শহরের রাস্তায় ভিড় করেন শত শত প্রযুক্তি ল্যাবের কর্মী। তাদের বেশির ভাগই ২০-এর কোঠার তরুণ-তরুণী, গলায় ঝুলছে অফিসের পরিচয়পত্র। আবার কেউ কেউ সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা বাড়ি থেকে কাজ করেন। অতিরিক্ত আয়ের জন্য কেউ আইফোন মাথায় বেঁধে সবজি কাটার সময় কিংবা বিছানা গোছানোর সময় ভিডিও ধারণ করেন।
তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারিত একটি খাতে কাজ করেন, যার নাম ডেটা অ্যানোটেশন বা তথ্য-চিহ্নায়ন। অন্তত এই মুহূর্তে এই কাজে মানুষের স্পর্শ অপরিহার্য। এআইয়ের জন্য এক ধরনের মানবিক শেষ সুরক্ষা-ব্যবস্থা হিসেবে ডেটা অ্যানোটেটররা মডেলের ত্রুটি সংশোধন করেন, দুর্বলতা খুঁজে বের করেন এবং এমন সব প্রোগ্রাম উন্নত ও পরিশীলিত করেন, যেগুলো গাড়ি চালানো, কারখানার উৎপাদন স্বয়ংক্রিয় করা কিংবা পণ্যের মজুত ব্যবস্থাপনার মতো কাজ পরিচালনা করে।

কাজটি অনেক সময় একঘেয়ে এবং কলেজে প্রকৌশল পড়া কর্মীদের প্রশিক্ষণের তুলনায় কম জটিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্দার সামনে বসে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম পরীক্ষা করতে হয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিগুলো যেভাবে পণ্য তৈরি ও নকশা করছে, তাতে কলেজ-শিক্ষিত তরুণদের কোডিংয়ের মতো কিছু চাকরি হারিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে ডেটা অ্যানোটেশন দেখাচ্ছে, ভারত কীভাবে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রবেশস্তরের চাকরির ঘাটতির মধ্যেও এআই-নির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
করুরের অবজেক্টওয়েজ টেকনোলজিসে কর্মরত এক তরুণী। প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৬০০ মানুষ কাজ করেন। দক্ষতা-নির্ভর প্রবেশস্তরের অফিস চাকরিতে মাসে প্রায় ২১০ থেকে ২৬০ ডলার বেতন পাওয়া যায়। অনেক কর্মী একটি মানবসদৃশ রোবটের জন্য তথ্য চিহ্নিত করেন, যে রোবটটি ঘরের দৈনন্দিন কাজ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য দ্রুত বেড়ে ওঠা তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
২৫ বছর বয়সী ঐশ্বরিয়া পালানিস্বামী ডেটা অ্যানালিটিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর গত বছর করুরভিত্তিক অবজেক্টওয়েজ টেকনোলজিসে চাকরি পান। প্রতিষ্ঠানটি মূলত আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য কাজ করে, যারা নিজেদের পণ্যে এআই ব্যবহার করছে। অবজেক্টওয়েজে ২ হাজার ৬০০ মানুষ কর্মরত, যার মধ্যে গত এক মাসেই ৩০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পালানিস্বামী বলেন, “ডেটা সব সময় থাকবে। তথ্যও সব সময় থাকবে।” এআই যখন ভারতে একসময় প্রচলিত বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা ও ডেটা এন্ট্রির মতো চাকরি স্বয়ংক্রিয় করে দিচ্ছে, তখন তিনি মনে করেন, তার চাকরিটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে।
তিনি ও তার সহকর্মীরা দ্রুত সম্প্রসারিত ‘ফিজিক্যাল এআই’ খাতের বিভিন্ন পণ্য থেকে আসা ভিডিও পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে চালকবিহীন গাড়ি ও মানবসদৃশ রোবট। ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেমে তারা পরীক্ষা করেন, এআই মডেলটি নির্ধারিত কাজ কতটা সঠিকভাবে সম্পন্ন করছে।
অবজেক্টওয়েজের দক্ষতাভিত্তিক প্রবেশস্তরের অফিস চাকরিতে মাসে প্রায় ২১০ থেকে ২৬০ ডলার বেতন দেওয়া হয়। প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষের শহর করুরের মতো ছোট ভারতীয় শহরে এটি স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের মতো আয়। আর বাড়িতে নিজের ভিডিও ধারণের মতো দক্ষতাহীন ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য ফুটেজের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় ২ দশমিক ৫০ ডলার দেওয়া হয়।

ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ ভারতীয় ১৮ বছরে পা দেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের জন্য এই বিষয়টি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
তরুণদের সুযোগের অভাবই গত মাসে শিক্ষা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ‘ককরোচ’ বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। সমৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের এক স্বর্ণযুগে ভারতকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মোদি বিরল এক রাজনৈতিক ছাড় দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পরিবর্তন করেন। কিন্তু স্নাতকদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক চাকরির ঘাটতি নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা এত সহজে দূর হওয়ার নয়।
অবজেক্টওয়েজের মতো ডেটা অ্যানোটেশন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বেশির ভাগ কাজ ভারতের বাইরের কোম্পানির জন্য করলেও মোদি সরকার চায়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এআই ব্যবসা ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করুক, যাতে দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বড় হয়।
ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এস. কৃষ্ণন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ—দেশটির ১৪০ কোটি মানুষ—এআই অর্থনীতির সেই অংশগুলোতে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে, যেখানে বিশেষ ধরনের মানবিক জ্ঞান প্রয়োজন।
এর মধ্যে ভারতের বহু ভাষার অনুবাদ কিংবা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রোগীদের পর্যবেক্ষণের মতো কাজ থাকতে পারে। কৃষ্ণনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে এসব ক্ষেত্রে কাজ করছে।
তবে ভারতকে এমন বিপুলসংখ্যক এআই-নির্ভর চাকরি তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যেগুলো পরবর্তী সময়ে আবার হারিয়ে যেতে পারে, যেমনটি আগে ব্যাক-অফিসের চাকরির ক্ষেত্রে হয়েছিল। কৃষ্ণন বলেন, “আমাদের আরও উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী চাকরি খুঁজতে হবে।”
২০২৫ সালে একটি সরকারি থিংকট্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এআইয়ের কারণে তথ্য ও প্রযুক্তি পরিষেবা খাতের ১৫ লাখ পর্যন্ত চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেসব কাজকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারে, তার পরিসর বিশাল। একইভাবে উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগও কম নয়।
পাঞ্জাবের ডেটা অ্যানোটেশন কোম্পানি ল্যাবেলার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পুনীত জিন্দাল বলেন, অফিস ও বাড়িতে আরও বেশি পণ্যে এআই ব্যবহৃত হতে শুরু করলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী থেকে সংগৃহীত এবং বিভিন্ন ভাষায় তৈরি ডেটার প্রয়োজনও বাড়বে।

জিন্দাল বলেন, “ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় দেশগুলোর একটি। মানুষের কাজ করার ধরনও অসংখ্য রকম। ভারত থেকে যে পরিমাণ তথ্য ও বৈচিত্র্যের পরিসর পাওয়া সম্ভব, তা অসাধারণ।”
মানুষ আজ যে কাজগুলো নিজের হাতে করেন, সেগুলো সম্পন্ন করার জন্য তৈরি রোবোটিক যন্ত্রের উদীয়মান বাজারে এই সুবিধা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক করুরে অবজেক্টওয়েজের ল্যাব পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, বহু কর্মী এমন একটি মানবসদৃশ রোবটের জন্য ডেটা অ্যানোটেট করছেন, যেটি ঘরের দৈনন্দিন কাজ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে এমন একটি যন্ত্র, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষকে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে জানাতে পারে।
সম্প্রতি এক সকালে একটি পরীক্ষামূলক রান্নাঘরে এক কর্মী ক্যামেরা সংযুক্ত এক জোড়া রোবোটিক পিন্সার পরিচালনা করছিলেন। এসব যন্ত্র কীভাবে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজ করে, তার ভিডিও ধারণ ও বিশ্লেষণ করছিল অবজেক্টওয়েজ। কাজগুলোর মধ্যে ছিল প্লেট তোলা, পানির বোতলের ঢাকনা খোলা, বোতলের পানি একটি কাপে ঢালা এবং খাবার সাজানো। কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষামূলক বাথরুম ও শোবার ঘরেও একই ধরনের কাজ বারবার করেন।
অবজেক্টওয়েজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি রাজালিংগম বলেন, “আমরা রোবটকে ডেটা দিচ্ছি এবং বলছি—এটা থেকে শেখো।”
একটি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সময় এআই ব্যবহার করে ঋণের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়ার পর রাজালিংগম এই খাতের প্রতি আগ্রহী হন। ২০১৯ সালে নিজের শহর করুরে অবজেক্টওয়েজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তার লক্ষ্য ছিল সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী প্রথম ২০ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলেন।
রাজালিংগম বলেন, “ভারত আর বিশ্বের ব্যাক অফিস নয়।”
তিনি স্বীকার করেন, তার প্রতিষ্ঠানের অনেক চাকরির জন্য প্রকৌশল ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে তার মতে, “কাজটি প্রযুক্তিনির্ভর, এবং তারা এআই মডেল সম্পর্কে শিখতে পারে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক কর্মী ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের উচ্চতর দায়িত্বে পৌঁছান।
২৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আফসার এখন পদোন্নতি পেয়ে করুরের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পশ্চিমে বড় শহর কোয়েম্বাটোরে অবজেক্টওয়েজের কার্যালয়ে ৬০০ কর্মীর কাজ তদারক করেন।
তিনি বলেন, “এটি বিশাল একটি প্রক্রিয়া এবং আমাদের বিপুল কর্মী প্রয়োজন।”

কাছাকাছি এলাকায় বেড়ে ওঠা আফসার তার পরিবারের প্রথম কলেজপড়ুয়া সদস্য। তিনি জানান, ২০০ জন কর্মী দিনে প্রায় ৭০ ঘণ্টার রোবট বা চালকবিহীন গাড়ির ভিডিও প্রক্রিয়াজাত করতে পারেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিদিন যে ১ হাজার ঘণ্টা ভিডিও আসে, তা বিশ্লেষণের জন্য এই সক্ষমতা এখনো যথেষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি দশকের শেষ নাগাদ ডেটা অ্যানোটেশন ভারতের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের বোঝানোর মতো বড় শিল্পে এখনো পরিণত হয়নি যে, এআই প্রতিযোগিতায় ভারতকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে।
এশিয়ার কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতি এআইয়ে বিনিয়োগ করতে দেরি করেছে। বিশেষ করে ভারতকে মরগ্যান স্ট্যানলির একটি প্রতিবেদনে ‘পিছিয়ে থাকা দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। দেশটি ২০২৪ সালের আগে এআই উন্নয়নের জন্য প্রথম বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। ওই বছর সরকার ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
দেরিতে শুরু করার ফলে এআইয়ের কারণে অপ্রচলিত হয়ে যাওয়া প্রযুক্তি খাতের চাকরি হারানো কর্মীদের সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের হাতে তুলনামূলক কম সময় ও সুযোগ ছিল।
অবজেক্টওয়েজে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা আপাতত এআই বিপ্লবের এই গুরুত্বপূর্ণ অথচ নিয়মমাফিক কাজের মানবিক অংশটুকু সামলাতে পেরে সন্তুষ্ট।
২৫ বছর বয়সী হরি প্রসাদ গত বছর প্রকৌশল ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হওয়ার সময় কল্পনাও করেননি যে তার কাজের সঙ্গে একদিন কল্পবিজ্ঞানের মতো কোনো বিষয় জড়িয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “কেউ যদি আমাকে ১০ বছর আগে বলত যে একদিন একটি রোবট আপনার কাছে কফি নিয়ে আসবে, আমি বিশ্বাস করতাম না।”
কিন্তু আজ তার কাজই হলো সেই ভবিষ্যৎ বাস্তবে নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।
হেসে তিনি বলেন, “রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আমাদের একজন মানুষ দরকার।”
জেরেমি ডব্লিউ. পিটার্স ও হরি কুমার 



















