নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস নদীতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো একটি উত্তর আমেরিকান নদীর ভোঁদড়ের দেখা মিলেছে। জুন মাসে গতিসংবেদী ক্যামেরায় প্রাণীটির ছবি ধরা পড়ে। সংরক্ষণবিদদের মতে, নদীটির দীর্ঘদিনের দূষণমুক্তকরণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সফল হওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
দূষণে হারিয়ে গিয়েছিল প্রাণবৈচিত্র্য
একসময় ব্রঙ্কস নদী ছিল নিউইয়র্কের অন্যতম দূষিত জলপথ। কারখানা থেকে রাসায়নিক বর্জ্য, কসাইখানা থেকে প্রাণীর বর্জ্যসহ তেল, পয়োনিষ্কাশনের ময়লা, পুরোনো টায়ার ও নানা ধরনের আবর্জনা নদীতে ফেলা হতো। ফলে ধীরে ধীরে নদীর পানির মান নষ্ট হয়ে যায় এবং বহু প্রাণী সেখান থেকে হারিয়ে যায়। নদীর ভোঁদড়ও সেই তালিকায় ছিল।
তবে ১৯৭০-এর দশক থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন, সরকারি সংস্থা এবং ব্রঙ্কসের স্থানীয় বাসিন্দারা নদীটি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি কাজ শুরু করেন। দূষণ কমানোর পাশাপাশি নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফিরছে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী
ব্রঙ্কস নদীতে ভোঁদড়ের ফিরে আসা সেই প্রচেষ্টার বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০০৭ সালে প্রায় দুই শতাব্দী পর নদীটিতে বিভার ফিরে আসে। বিভিন্ন সময় ক্যামেরায় কচ্ছপ, মস্কর্যাট ও নানা প্রজাতির পাখির উপস্থিতিও ধরা পড়েছে।
ভোঁদড়কে মিঠাপানির পরিবেশের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খাদ্যশৃঙ্খলের ওপরের দিকের এই প্রাণীর টিকে থাকার জন্য পরিষ্কার পানি এবং পর্যাপ্ত মাছ প্রয়োজন। ফলে নদীতে ভোঁদড়ের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ব্রঙ্কস নদীর পরিবেশ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
স্থায়ীভাবে ফিরেছে কি না, এখনও নিশ্চিত নয়
তবে এই ভোঁদড়টি ব্রঙ্কস নদীতেই স্থায়ীভাবে বসতি গড়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নন গবেষকেরা। প্রাণীটি হয়তো নদীতে অবস্থান করছে, আবার অন্য কোনো নিরাপদ আবাসস্থলের পথে সাময়িকভাবে এখানে থেমেও থাকতে পারে।

তবু শত বছরের বেশি সময় পর ভোঁদড়ের উপস্থিতি নদীটির পুনর্জীবনের সম্ভাবনাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। একসময় যে জলপথে মানুষের ফেলা বর্জ্যের কারণে প্রাণীরাও থাকতে চাইত না, সেখানেই এখন আবার বন্যপ্রাণীর আনাগোনা শুরু হয়েছে। পরিবেশবিদদের কাছে এটিই দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ফলগুলোর একটি।
শত বছরের বেশি সময় পর ব্রঙ্কস নদীতে ভোঁদড়ের ফিরে আসা প্রমাণ করছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ প্রকৃতিকে আবারও সুস্থ করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















