ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহের একটি ব্যস্ত বিপণিবিতানে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৩০ জন, যাদের মধ্যে ২৩ জন শিশু। শুক্রবারের এই হামলাকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘নিষ্ঠুর ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ বলছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস হামলাটিকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলতে চাইছে।
কালাস জানিয়েছেন, আগামী মাসে আয়ারল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রস্তাব করা হবে।
তিনি বলেন, ক্রিভি রিহের বিপণিবিতানে হামলা মস্কোর যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নিষ্ঠুরতার স্পষ্ট উদাহরণ।
উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা

হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রথম হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা পর একই ভবনের ছাদে আরও একটি ড্রোন আঘাত হানে। জেলেনস্কির অভিযোগ, দ্বিতীয় হামলাটি ছিল উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো।
প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছিল, হামলায় ১৫ জন নিহত এবং ১৩০ জন আহত হয়েছেন। পরে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান আলেক্সান্ডার গানজা নিহতের সংখ্যা ১৬ জনে উন্নীত হওয়ার কথা জানান।
জেলেনস্কি বলেন, সাধারণ মানুষের একটি বিপণিবিতানে এমন হামলা সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর ও নিন্দনীয়।
মাইকোলাইভেও প্রাণহানি
এর বাইরে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ এলাকায় আরেকটি রুশ হামলায় তিন শিশুসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও তীব্র হয়েছে। সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত শিল্পনগরী ক্রিভি রিহ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বারবার রুশ হামলার শিকার হচ্ছে।

কিয়েভের পাশে থাকার ঘোষণা মিত্রদের
ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার দেশটির মিত্ররা কিয়েভে বৈঠকে বসবেন। ‘ইচ্ছুক দেশগুলোর জোট’ নামে পরিচিত এই বৈঠকে প্রায় ১০ জন নেতা অংশ নেবেন বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
জোটের বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কোস্তাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
জেলেনস্কি তাঁর মিত্রদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাশিয়াকে আগ্রাসনের জন্য বাস্তব জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।
শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন জেলেনস্কি। এ সময় তিনি রুশ হামলা ও এতে বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রধানকে অবহিত করেন।
রাশিয়ার হামলা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন তার মিত্রদের কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে। বিশেষ করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















