হলিউডের অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারির মৃত্যুর পর আবারও সামনে এসেছে শৈশবেই তারকা হয়ে ওঠা মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তির ঝুঁকির বিষয়টি। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তাঁর মৃত্যুর পেছনে মাদক বা অ্যালকোহলের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাও যুক্ত হয়েছে।
প্যানেটিয়ারি এমন অনেক অভিনেতার একজন, যারা খুব অল্প বয়সে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছানোর পর প্রকাশ্যে আসক্তির সঙ্গে লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। আসক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবে ব্যাপক পরিচিতি, অর্থ ও জনসাধারণের নজর মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহারের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
শৈশবেই প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের চাপ
মিসিসিপির একটি আসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের চিকিৎসা পরিচালক লুকাস ট্রটম্যান বলেন, বাইরে থেকে মনে হতে পারে শিশু তারকাদের জীবনে সবকিছুই আছে—খ্যাতি, অর্থ ও সুযোগ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাঁদের বিকাশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অনেক প্রাপ্তবয়স্ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়, যার সম্মুখীন সাধারণত অন্য শিশুরা হয় না।
বিশেষ করে মানসিক আঘাত, অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং অল্প বয়সেই প্রাপ্তবয়স্ক পরিবেশে প্রবেশ তাঁদের জন্য আলাদা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশ্যে এসেছিল
মৃত্যুর আগে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে প্যানেটিয়ারি তাঁর আসক্তির সঙ্গে লড়াই, সন্তান জন্মের পরের বিষণ্নতা এবং ২৮ বছর বয়সী ভাইকে হারানোর গভীর শোকের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় অলাভজনক আসক্তি নিরাময় সংস্থার কর্মকর্তা উইলিয়াম মোয়ার্স বলেন, নিজের সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে বলার জন্য প্যানেটিয়ারির সিদ্ধান্ত সম্মানের যোগ্য। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের তীব্র জনসম্মুখের নজর হয়তো তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মানসিক সমস্যাগুলো মোকাবিলার প্রয়োজনীয় সুযোগ দেয়নি।
সারাক্ষণ মানুষের নজরে থাকা
মোয়ার্সের ভাষায়, প্যানেটিয়ারির পুরো জীবন শুরু থেকেই তীব্র জনদৃষ্টির মধ্যে ছিল। ফলে নিজের জন্য মানসিকভাবে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে সংকট মোকাবিলার সুযোগ তাঁর খুব বেশি ছিল না।
শিশু বয়সে খ্যাতি অর্জন তাই শুধু অর্থ ও পরিচিতির গল্প নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সংকট, অস্বাভাবিক প্রত্যাশা, প্রাপ্তবয়স্কদের চাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে মানসিক আঘাত। এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করলে একজন তরুণ তারকার জন্য আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মাদকাসক্তির বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির গভীরতা বোঝা যায় না। শৈশবের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক আঘাত, খ্যাতির চাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী জননজর—সবকিছু মিলেই একজন মানুষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হেইডেন প্যানেটিয়ারির জীবন সেই বাস্তবতারই একটি বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















